হোম > সারা দেশ > রংপুর

সরকারি জমিতে আ.লীগ নেতার মার্কেট

উপজেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

জানা গেছে, জাকির হোসেন বাবুল কৌশলে সরকারি জমি নিজের নামে রেকর্ড করে নিলেও প্রশাসন কাগজে-কলমে উদ্ধার করে। তবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার জমি উদ্ধার এবং ওই জায়গায় স্থাপিত মার্কেট উচ্ছেদে নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন।

কিশোরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ প্রধান বাজারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানে ৬৭ দাগে হাটের জমি রয়েছে ২ একর ৬৩ শতাংশ। এ জমির উপরে কিশোরগঞ্জের প্রধান বাজার অবস্থিত। হাটের ৮ শতাংশ জমি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তার ভাই সহসভাপতি সাইয়েদ হোসেন তাদের নামে রেকর্ড করে নেন। পরে মিস কেসের মাধ্যমে তা আবারও সরকারের নামে রেকর্ড সংশোধন করা হয়েছে।

ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্র আরো জানায়, একই দাগে পৈতৃক সূত্রে সফিজ উদ্দিন মিয়া ও মাহাতাব উদ্দিন মিয়ার নামে ৬০ নং খতিয়ানে ৭ শতাংশ জমি রয়েছে। সফিজ উদ্দিন প্রাপ্যতা অনুযায়ী তার সাড়ে ৩ শতাংশ জমি ৪ আগস্ট ২০০২ সালে ৬৪১১ নং দলিলমূলে তার অপর ছেলে মোস্তাফিজার রহমানকে লিখে দেন। ফলে ওই জায়গায় তাদের আর কোনো জমি নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪ আগস্ট ২০০২ সালে সফিজ উদ্দিন মিয়ার অপর দুই ছেলে জাকির হোসেন বাবুল ও সহসভাপতি সাইয়েদ হোসেন ৪৩২ নং ভুয়া খতিয়ান তৈরি করে ৪ শতাংশ করে ৮ শতাংশ জমি দলিল সম্পাদনা করে নেন। জাকির হোসেন ও সায়েদ হোসেন ৭০৪ ও ৭০৫ নং ডিপি খতিয়ানে কৌশলে তাদের নামে ওই ৮ শতাংশ রেকর্ড করে মোস্তাফিজার রহমানের সাড়ে ৩ শতাংশ জমি ১ নং খাস খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত করেন। ফলে মোস্তাফিজার রহমান টের পেয়ে জোনাল সেটেলমেন্টে রেকর্ড সংশোধনের জন্য মিস কেস দায়ের করেন, যার নম্বর ২৮৪/২৪। সরকারপক্ষে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা শাহজাহান আলী মামলাটি মোকাবিলা করেন।

মিস কেসের কপিতে উল্লেখ করা কাগজপত্র ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আবেদনকারীর (মোস্তাফিজার রহমান) দখলীয় এবং দলিলমূলে খরিদকৃত জমি হাল ৩৬০৩ দাগের সাড়ে ৩ শতাংশ জমি ১নং ডিপি খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত আছে। ২৭ মে ২০২৫ মামলার আদেশে ডিপি ১নং খতিয়ান থেকে সাবেক ৬৭ হাল ৩৬০৩ দাগের সাড়ে ৩ শতাংশ জমি কর্তন করে আবেদনকারীর (মোস্তাফিজার রহমান) নামে পৃথক খতিয়ানে রেকর্ড এবং ডিপি ৭০৪ ও ৭০৫ হাল ৩৬০৫ দাগে ৪ শতাংশ করে ৮ শতাংশ কর্তন করে ১ নং খতিয়ানে রেকর্ড প্রদানের আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, এসএ ৪৩২ খতিয়ান থেকে যে ৮ শতাংশ জমির দলিল করা হয়েছে, ওই খতিয়ানের কোনো অস্তিত্ব নেই। মিস কেসের মাধ্যমে হাটের ৮ শতাংশ জমি কাগজে কলমে প্রশাসন উদ্ধার করলেও পরবর্তীতে উচ্ছেদে অংশ নেয়নি কোনো পদক্ষেপ। ফলে হাটের জমিতে জাকির হোসেন ও সাইয়েদ হোসেনের মার্কেট রয়েছে বহালতবিয়তে।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, ‘আমরা জানতাম আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তার ভাই মার্কেটটি পৈতৃক জমিতে নির্মাণ করেছেন। সম্প্রতি হাটের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে ইউএনও বাজারে এলে জানতে পারি ওই মার্কেট হাটের জমিতে। ৮ শতাংশ জমির কথা বলা হলেও বাস্তবে ১২ শতাংশ জমির ওপরে এ মার্কেট। প্রতি শতক ৩০ লাখ টাকা হলে দখলকৃত জমির দাম প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। আমরা প্রশাসনের কাছে হাটের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদপূর্বক পরিচ্ছন্ন একটি হাটের দাবি জানিয়েছি।

আত্মগোপনে থাকায় জাকির হোসেন ও সায়েদ হোসেনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহ্ জানান, হাটটি অবৈধ দখলদারদের হাটে পরিণত হয়েছে। সব অবৈধ দখলদারের দখলীয় স্থাপনা উচ্ছেদ করে পরিচ্ছন্ন হাট করা প্রয়োজন।

ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আফতাব আলম জানান, ‘আমি নতুন এসেছি। আদেশের কপি দেখেছি। রেকর্ড সংশোধন হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান জানান, বিষয়টি শুনেছি। পর্যালোচনার পর স্থাপনা উচ্ছেদে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

জেডএম

ক্যাসিনো জুয়াচক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার

কোরবানির পশু কাটতে সৈয়দপুরের কসাইরা বিমানেযোগে ছুটছেন ঢাকায়

কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেল ২৫০ হতদরিদ্র

পার্বতীপুরে ৩৭০০ ইয়াবাসহ নারী আটক

সোনাহাট স্থলবন্দর ঈদে বন্ধ থাকবে ৮ দিন

আদিতমারীতে ফাঁকা বাড়ি থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

রংপুরে ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন

সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার দাবিতে মানববন্ধন

রংপুরে রামিসা হত্যার বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ সেতু নির্মাণ ও ট্রেন চালুর দাবিতে মানববন্ধন