ঢাকা-সিলেট রেলপথের হবিগঞ্জের সাটিয়াজুরী রেল স্টেশনে আধুনিক ভবন নির্মিত হলেও নেই কোনো কার্যক্রম। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্টেশনটি এখন অযত্ন ও অবহেলায় দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্টেশন নির্মাণের পর দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় স্থানীয়রা স্টেশনের কার্যক্রম চালু করতে এবং ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন।
সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনের সাবেক এমপি শাহ নওয়াজ মিলাদ গাজীর সময়ে সরকার ৭৮ লাখ ৯৬ হাজার ৩৬৮ টাকা বরাদ্দ দেয় স্টেশন ভবনের জন্য। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স পাইওনিয়ার এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যথারীতি ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু আধুনিক ভবন নির্মিত হলেও কোনো লাভ হয়নি এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মিত স্টেশন ভবনের জানালার গ্লাস ভেঙে যাচ্ছে, ভবনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ধান শুকানোর কাজে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন এলাকাবাসী। তাছাড়া গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণে নষ্ট হচ্ছে সুন্দর পরিবেশ।
এছাড়া রাতের আঁধারে স্টেশন এলাকা জুয়া ও মাদক সেবনের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি সরকারি সম্পদও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ।
এদিকে স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় এলাকার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একসময় এই স্টেশনটি ছিল আশপাশের শতাধিক গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করতেন। দিনভর কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকত পুরো এলাকা।
জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেশনটিতে একসময় একাধিক ট্রেনের যাত্রাবিরতি ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের সংখ্যা কমতে থাকে। পরবর্তী সময়ে লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে স্টেশনটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে স্টেশন মাস্টার না থাকায় সরকারি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণেও চরম অবহেলা দেখা দিয়েছে ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৯৮-৯৯ সালে স্টেশনটি বন্ধ ঘোষণা করা হলে এলাকাবাসী রেললাইন অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। পরে কিছুদিনের জন্য ট্রেন থামানো হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে করে কৃষক, মৃৎশিল্পীসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। আগে তারা এই স্টেশন ব্যবহার করে সহজেই তাদের পণ্য বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতে পারতেন।
সাটিয়াজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাহমুদুল হক সুজন বলেন, দ্রুত সাটিয়াজুরী রেল স্টেশনের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করে কার্যক্রম চালু করতে হবে। পাশাপাশি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতিসহ লোকাল ট্রেন চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন আনন্দ বলেন, সাটিয়াজুরী স্টেশনটি ডি-ক্লাসের। এখানে স্টেশন মাস্টার লাগে না, শুধু একজন বুকিং সহকারীসহ তিনজন কর্মচারী হলেও স্টেশন চালানো সম্ভব। তবে যেহেতু এই রোডে লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে, তাই আবার লোকাল ট্রেন চালু না হলে স্টেশনের কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।