সুনামগঞ্জে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দেড় কোটি টাকার মালামাল। চোখের সামনেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে শেষ হয়ে গেছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা স্বপ্ন। এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন এবি এম জাকির হোসেন পারভেজ নামে এক ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী।
রোববার রাত সাড়ে ১১টায় হঠাৎ করে শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন মার্কেটের পেছন দিক থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একে একে ১৫টি দোকান চোখের সামনেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া এক বড় ব্যবসায়ীর নাম এবি এম জাকির হোসেন পারভেজ। তিনি শহরের জামতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন ব্যবসাটি। শহরে প্রাণকেন্দ্রে গড়ে তোলা ব্যবসায়ীর ডাক নাম ছিল বেশ। দোকানে দেড় কোটি টাকা মুল্যের ইলেকট্রিক সামগ্রী ছিল। জীবনের সম্বলটুকু ব্যবসায় খাটান। আগুনে দেড় কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সব হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। এখন তার চোখে জল আর জল। ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য নেই। ব্যাংকেও লোন পরিশোধ করা হয়নি। পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি এখন অসহায়।
আরফিন নগরের রওনক বখত জানান, শহরের বড় ব্যবসায়ী পারভেজ এখন নিঃস্ব। আগুনে তার প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ব্যাংকে ৫০ লাখ টাকার সিসি লোন রয়েছে। জীবনের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে দিশেহারা পারভেজ ঘুরে দাঁড়াতে চায়। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা ছাড়া তার পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।
ক্ষতিগ্রস্থ এবি এম জাকির হোসেন পারভেজ বলেন, আমি তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলাম ব্যবসাটি। গোডাউন ও দোকান মিলে দেড় কোটি টাকার মালামাল ছিল। দেড় ঘণ্টাব্যাপী ফায়ার সার্ভিস ঠিম চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরি মধ্যে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের জনবল কম। আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। লক্ষর ঝক্কর যন্ত্রপাতি দিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব না। আধুনিক যন্ত্রপাতি হলে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতো। আমার দেড় কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যেতো না। আমি সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব। ঘুরে দাঁড়ানোর মতো সামর্থ্য আমার নেই। এখন আমি বাচ্ছাদের পড়াশুনার খরচ ও সংসার কিভাবে চালাবো জানি না।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারন ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।