সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মোশাহিদ তালুকদারের বিরুদ্ধে গোচারণভূমি ও উন্মুক্ত জলাশয় জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনসাধারণ অভিযোগ করছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খাসজমি ও জনগণের ব্যবহারযোগ্য উন্মুক্ত জলাশয় নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার বিকাল টার দিকে মাড়াইখলা (গোচারণভূমি) ও করুয়াজান মৌজার উন্মুক্ত জলাশয় স্থানীয়দের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবিতে মধ্যনগর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন দুই শতাধিক এলাকাবাসী। মানববন্ধন শেষে ২৬ জন স্থানীয় ব্যাক্তির স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনের নিকট জমা দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে করুয়াজান গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বীরেন্দ্র সরকার বলেন, আগে এই মাড়াইখলায় আমরা গরু-ছাগল চরাতাম। এখন মোশাহিদ তালুকদারের লোকজন জায়গাটি দখলে নিয়েছে। এমনকি আমাদের বাড়ির সামনের বিলটিও দখলের চেষ্টা চলছে।
একই অভিযোগ করেন শাহপুর গ্রামের নূর আলম। তিনি বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে মাড়াইখলা উন্মুক্তভাবে ব্যবহার করে আসছি। ১০ বছর আগে একবার একটি প্রভাবশালী মহল এটিকে তালুকী সম্পত্তি বানাতে চেয়েছিল। তখন আমরা এলাকাবাসী মিলে চাঁদা তুলে জায়গাটি রক্ষা করি।
করুয়াজান গ্রামের মোফাজ্জিল হোসেন আকাশ জানান, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে মোশাহিদ তালুকদার গোচারণভূমি দখল করেন। এখন তিনি গোড়াডুবা বিল ইজারা নিয়ে করুয়াজান মৌজার উন্মুক্ত জলাশয়ে স্থানীয়দের মাছ ধরতে বাধা দিচ্ছেন। অথচ এক সময় এই জলাশয় সংরক্ষণের আন্দোলনে তার ভাই-ই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
মাছুয়াকান্দা গ্রামের মো. সাগর মিয়া অভিযোগ করেন, আমরা জন্ম থেকেই এই জলাশয় ও গোচারণভূমি ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু এখন মোশাহিদ তালুকদার ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে সেখান থেকে বিতাড়িত করছেন। তার অনুসারীদের দ্বারা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন হুমকি-ধমকিরও শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোশাহিদ তালুকদার বলেন, আমি কোনো সরকারি জায়গা কিংবা উন্মুক্ত জলাশয় দখল করিনি। কিছু আওয়ামী লীগপন্থী ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহম্মেদ মিলন আমার দেশকে বলেন, ঘটনাটি আমি আগে জানতাম না, এখন আপনার মুখ থেকেই শুনলাম। কেউ যদি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বেআইনি কাজে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
এদিকে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, ঘটনাটি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।