হোম > সারা দেশ > সিলেট

দীর্ঘদিনেও ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না নারী চা শ্রমিকদের

এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)

সিলেট চা বাগানের নারী শ্রমিকরা হচ্ছেন অধিকারবঞ্চিত। পরিশ্রম করেও পাচ্ছেন না ন্যায্য মজুরি। চা শিল্পের উন্নয়নে নারী শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না । বরাবরই তারা অর্ধাহারে- অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জানা গেছে, চা বাগানের কারণে সিলেটকে ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ির’ দেশ বলা হয়। এখানকার পাহাড়ের কোলে সবুজময় শতবর্ষী চা বাগানগুলোতে মৌসুমে চায়ের নতুন পাতার সূচনা হয়, কিন্তু সংকটমুক্ত হয় না নারী শ্রমিকদের জীবনের । চা বাগানের নারী শ্রমিকরা চা বাগানের অভ্যন্তরে ও বাইরে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করলেও তারা জানে না তাদের অধিকারের কথা। এসব নারী চা শ্রমিক এ শিল্পে অবদান রাখলেও তারা বরাবরই হচ্ছেন অধিকার থেকে বঞ্চিত। নারী চা শ্রমিকরা সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে প্রতিদিন সকালে দলবেঁধে চা বাগানে চলে আসেন। সারাদিন দাঁড়িয়ে চায়ের পাতা তুলে সন্ধ্যায় ফিরে ১০২ টাকার মালিক হন তারা।

সমাজের সব পেশার নারীরা কমবেশি সম্মান পেলেও চা শ্রমিক নারীরা আজীবন উপেক্ষিত। ন্যায্য মজুরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, সুপেয় জল, স্যানিটেশনসহ কোনো কিছুরই সুবিধা পান না তারা। এক কথায় নারী হয়ে পাহাড়ের কোলে জন্ম নেওয়াটাই তাদের অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ তারা চা শিল্পের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন। চা শ্রমিকদের ২০০৭ সালে মজুরি ছিল ৩২ টাকা। ২০০৯ সালে ১৬ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৪৮ টাকা।

২০১৩ সালে বাড়ানো হয় ৬৯ টাকা, আর এখন ৭৫ টাকা। কিন্তু শ্রমিকদের দাবি প্রতিদিন যেন তাদের ২৫০-৩০০ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। বর্তমানে উৎসবভাতা বেড়েছে। বৃদ্ধ চা শ্রমিকদের সমাজসেবা মন্ত্রণালয় থেকে বছরে মাত্র ৫ হাজার টাকার খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। সেটাও চা শ্রমিকরা অনেক আন্দোলন করে আদায় করেছেন। পাহাড়ের কোলে জন্মের পর থেকেই চা বাগানে বসবাস অনিকা রানির। বয়স ৪০ বছর। নাম রানি হলেও রানিত্বের কোনো ছোঁয়া নেই তার মাঝে। নবীগঞ্জের ভবান চা বাগানে স্থায়ী চা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তিনি।

১৫ বছর বয়স থেকে চা বাগানে কাজ করেন তিনি। তার মাও ছিলেন চা শ্রমিক। চা বাগানের শ্রমিকদের ছেলেমেয়েরা খুব একটা লেখাপড়ার সুযোগ পায় না, সুযোগ না পাওয়ার দলে ছিলেন অনিকা রানিও। বাংলা বর্ণমালা ছাড়া আর বেশিকিছু শেখার সৌভাগ্য হয়নি তার। কিন্তু অভাবের সংসার আর স্কুল দূরে হওয়ার কারণে পড়তে পারিনি। অনিকা রানি দৈনিক ১৫-২০ কেজি চা পাতা তুলে আয় করেন ৭৫ টাকা।

নির্দিষ্ট পরিমাণে চা পাতা তুলতে না পারলে আয়ের পরিমাণও কমে যায়। তবে ভালোভাবে সংসার চালানোর জন্য বাড়তি কাজ করেন তিনি। বাড়তি কাজ করেও যেন সংসার চলে না ঠিকমতো। সীমিত আয় ও জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে সংসার চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে অনিকা রানির মতো হাজারো নারী চা শ্রমিকের। তিনি বলেন, ‘চলাই যায় না। আমি আর আমার স্বামী কাজ করি, কিন্তু ঘরে ছয়জন নির্ভরশীল আছে। বর্তমানে যে রুজি পাই, তা দিয়ে কোনোমতেই চলে না। আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ।’

অনিকা রানির কাছ থেকে জানা যায়, সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে নারী শ্রমিকরা পরিবারে জন্য খাবার প্রস্তুত করেন। সকাল ৯টায় ঘর থেকে বের হয়। খাবার বলতে লাল চা, শুকনো রুটি। যে নারী শ্রমিকরা চা বাগানে কাজে যান তারা সকালেই কিছু খাবার নিয়ে যান। দুপুরের সময় নারী শ্রমিকরা দলবেঁধে বাগানের ভেতরে খাবারের জন্য বসে পড়েন। এ খাবারের মধ্যে রয়েছে কচি কুঁড়ি চা পাতা, আলু, কাঁচা মরিচ ও মুড়ি। দেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় চা শ্রমিকরা সবদিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে নিরক্ষরতা।

দেশে বাজেটের একটা বিরাট অংশ যেখানে ব্যয় হচ্ছে শিক্ষা খাতে, সেখানে চা বাগানের শিক্ষার হার অতি নগণ্য। দেশের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে যেমন কোটা-সুবিধা রয়েছে, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য তেমন কিছু নেই। নবীগঞ্জের ইমাম বাওয়ানী ভবান চা বাগানের ম্যানেজার বিনয় চন্দ্র বর্মা বলেন, এ বাগানে স্কুল ও হাসপাতাল নেই। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। ভবান চা বাগানটি নতুন, বেশি দিন হয়নি। তবুও চা বাগানের শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা সাধ্যমতো দেওয়ার চেষ্টা করছি।

১২০০ হেক্টর বোরো জমিতে সেচের সংকট

মাদকাসক্ত ছেলের নির্যাতন থেকে বাঁচতে ইউএনওর কাছে মায়ের অভিযোগ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের হাতাহাতি, ভিসি-প্রক্টরসহ আহত ৮

সুনামগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

জোরালো হচ্ছে রেজা কিবরিয়াকে অর্থমন্ত্রী করার দাবি

সিলেট-৫ আসনে শিক্ষক থেকে সংসদ সদস্য

জামায়াতের নির্বাচনি সভায় বক্তব্য, চাকুরি গেল ইমামের

সিলেটের ৬ আসনে জামানত হারিয়েছেন যারা

প্রায় ৩০ বছর পর বিএনপির দখলে হবিগঞ্জ-৪ আসন

সিলেটের ছয় আসনে জামানত হারালেন ২০ প্রার্থী