সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা ও পরে সংঘর্ষের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির।
এদিকে, হামলার পর শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। তবে মিড লেভেলের ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে এগারো টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের ঘটনা সৃষ্টি হয়। রোগীর স্বজনদের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে তর্কাতর্কি থেকে থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত।
এতে অন্তত ৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে কতোয়ালী পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় হামলায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। কোতোয়ালি থানার ওসি জাকির জানান, হাসপাতালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কর্মবিরতিতে যাওয়ার পর শনিবার ১২ টার দিকে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন হাসপাতালের পরিচালকসহ অন্যান্যরা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বৈঠক থেকে বের হয়ে ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান জানান, আমরা আমাদের বেশ কিছু দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেছি। কার্যক্ষেত্রে নিরাপত্তা সহ তুলে ধরা দাবীগুলো সমাধান হলে আমরা যেকোন মুহূর্তে আবারো কাজে যোগ দিবো।
এ ব্যাপারে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তদন্ত কমিটি ঘটনার সকল দিক খতিয়ে দেখছে এবং শীঘ্রই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
এদিকে, মারামারি ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ স্বজনকে রাতেই আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), একই গ্রামের শিমুল আহমদের স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) ও ছাতক থানাধীন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।