হোম > বাণিজ্য

বিদ্যুৎ-জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিতে দরকার জাতীয় ঐকমত্য

রাজনীতিক ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত

বিশেষ প্রতিনিধি

সংকটের গভীরে থাকা দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় ঐকমত্য গঠন প্রয়োজন বলে অভিমত দিয়েছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা বলেছেন, শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের ‍লুটপাট, ভুল নীতি ও দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ ব্যয়, জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা, ডলারের সংকট, ভর্তুকির চাপ ও দুর্বল সুশাসনের কারণে বিদ্যুৎ খাতের অবস্থা বেহাল। জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া নির্বাচিত সরকারের পক্ষে তা মোকাবিলা করা কঠিন হবে।

রাজধানীর একটি মিলনায়তনে মঙ্গলবার ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় আগামী সরকারের জন্য টেকসই পথনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিকেরা এসব কথা বলেন।

জাস্ট নিউজ এনার্জি আয়োজিত সেমিনারে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিরাজমান অবস্থা তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন।

সংকট সমাধানে আশু পদক্ষেপের বিষয়ে বক্তব্য দেন—জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়ক সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক এম তামিম, এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুশতাক হোসাইন খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী মহাসচিব এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন, ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাবেক সচিব আবুল মনসুর ফয়জুল্লাহ, বিইআরসির সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান, চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন খান, আইইইএফএর লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম, এলপিজি অটোগ্যাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেরাজুল মাওলা, লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ুন রশিদ, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন মালিক সমিতি মহাসচিব ফারহান নূর, রবির চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার শহীদ আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাস্ট এনার্জি নিউজের সম্পাদক শামীম জাহাঙ্গীর।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দেশে ২০০১ সালের পর বাস্তবভিত্তিক কোনো রিজার্ভার ম্যানেজমেন্ট স্টাডি হয়নি। গত ১৬ বছর ধরে গ্যাস অনুসন্ধানে স্থবিরতা বিরাজ করছে। দেশের প্রকৃত বিদ্যুৎ চাহিদা বিবেচনায় বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ অপ্রয়োজনীয়। যার আর্থিক বোঝা জনগণকে বহন করতে হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

জালাল আহমেদ আরো বলেন, নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চেয়ে বিদ্যমান সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও বিকল্প জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শর্ত অনুযায়ী রপ্তানি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এখনই নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, নীতিগত সংস্কার ও অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি ছাড়া বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, আমাদের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশই ফসিল ফুয়েলনির্ভর। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্যারিস চুক্তির আলোকে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক একটি চিত্র। একই সঙ্গে বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যা গত এক বছরে আরো বেড়েছে।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ খাত প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল ও কয়লার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়লেও গ্যাসের ঘাটতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা খাতকে অস্থির করছে। এ অবস্থায় এলএনজি আমদানি, আঞ্চলিক বিদ্যুৎসংযোগ এবং সৌরশক্তি, বায়োমাস ও সম্ভাব্য পারমাণবিক শক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাত স্থিতিশীল না হলে দ্রুত শিল্পায়ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ কঠিন হবে।

ভারতের আদানির সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলের চুক্তিকে আত্মঘাতী হিসেবে উল্লেখ করে বিচারপতি মইনুল বলেন, চুক্তিটি ছিল অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ও অপ্রতিযোগিতামূলক। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন চারগুণ বাড়লেও তাদের দেওয়া অর্থ ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের নিয়ম ও মূল্যায়ন নীতি অন্যান্য বড় প্রকল্পেও লক্ষ করা গেছে। অর্থনৈতিক প্রভাব গুরুতর। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতের বার্ষিক ক্ষতি ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে স্বচ্ছ চুক্তি, শক্তিশালী প্রশাসন এবং কার্যকর নীতি প্রয়োগ অপরিহার্য।

সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার লুটপাতের খাত হিসেবে ব্যবহার করেছে। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে এ খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে।

অধ্যাপক তামিম বলেন, সামনে দেশে বড় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করতে হবে। নতুন সরকারকে কঠিন সময় পার করতে হবে এবং রাজনৈতিকভাবে জটিল সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিলের আগে চলমান অবস্থায় যাচাই ও পর্যালোচনা জরুরি, কারণ তা না হলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে জনগণ ভোগান্তির মুখে পড়বে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জাতীয় ইস্যুতে সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীদের মধ্যে ঐকমত্যের প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নীতি বদলায়, কিন্তু সমস্যা সমাধান হচ্ছে না, বরং সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন—স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্নীতি রোধ এবং দেশপ্রেমমূলক নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কমিটমেন্ট এবং দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।

আটকে আছে রমজানের ভোগ্যপণ্য, বাজার পরিস্থিতি অনিশ্চিত

সঞ্চয়পত্র থেকে ছয় মাসে সরকারের নিট ঋণ আড়াই হাজার কোটি টাকা

বিনিয়োগখরার প্রভাব বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণেও

‘শূন্যের চক্করে’ শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার

আরো ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

২.১ লাখ টন সার কিনবে সরকার

যমুনা সার কারখানায় ফের উৎপাদন শুরু

৬ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় লাফ

এনবিআর ভেঙে দুই বিভাগ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা

রিজার্ভ ফের ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল