হোম > বাণিজ্য

এআই খাতে বড় বিনিয়োগ বিশ্ববাজার ব্যবস্থা ধ্বংস করতে পারে

বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাবান্ধব ও শিথিল নীতির সহায়তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের পেছনে হাজার কোটি ডলারের বিপুল বিনিয়োগ শেয়ারবাজারগুলোকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে সেটা চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে ৩ শতাংশ হারে ভালো প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছিল।

কিন্তু যুদ্ধ, ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ এবং বাণিজ্যিক উত্তেজনার চাপে বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারগুলো ধুঁকছে। জাপানি ও ফরাসি বন্ড বিক্রি করে দেওয়ার হিড়িক, উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রার অধঃপতন—এসবই সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এআই খাতের এই বিশাল বিনিয়োগ কৌশলটি এতদিন বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করে রাখলেও তাতেও এখন ফাটল দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার রয়টার্সের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারের টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্থিতিশীল বাণিজ্যনীতি এবং ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি খাতে সৃষ্ট ধাক্কা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতিকে আবারও উসকে দিয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপর সুদের হার বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পেছনে বিপুল মূলধন বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন সরকারের উচ্চ ঋণের বোঝা যুক্ত হয়ে ঋণের ব্যয়কে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

বছরের শেষ পর্যায়ে এসে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

এআই খাতে বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের নির্ধারিত মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ইউরো জোনের মুদ্রাস্ফীতিও বর্তমানে ৩.৮ শতাংশে রয়েছে, যা তাদের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি বিভাগের সাবেক মন্ত্রী জিম ও'নিল বলেন, সুদের হার বাড়লে সব সময়ই সবচেয়ে দুর্বল পক্ষগুলো বেরিয়ে আসে এবং তাদের নাজুক অবস্থা প্রকাশ হয়ে পড়ে। যেসব দেশ বা ব্যবসা অতিরিক্ত ঝুঁকির মধ্যে থাকে, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত বড় কোনো বিপর্যয় না হওয়ায় বড্ড অবাক হচ্ছি।

রয়টার্স বলছে, গত অক্টোবরে বাজারে হঠাৎ করেই অস্থিরতা দেখা দেয়। বিনিয়োগকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শেয়ার থেকে পুঁজি সরিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েন। গত মাসে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক ১০০ সূচক থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজারমূল্য হারিয়ে যায়। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেখানে বিনিয়োগ করা অর্থ আদৌ দ্রুত মুনাফা বয়ে আনতে পারবে কি না, সে ব্যাপারে বিনিয়োগকারীরা আরও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন। কিছু প্রযুক্তি কোম্পানির বন্ডের বিমা খরচ বেড়ে গেছে, ডেটা সেন্টার তৈরির প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে হিমশিম খাচ্ছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দরপতন ঘটেছে।

তবে বিনিয়োগকারীরা বন্ডের দিকে ঝুঁকেছেন। বন্ডের দামের সঙ্গে এর আয়ের হারের সম্পর্ক বিপরীতমুখী। তাই দাম বাড়লে আয়ের হার কমে যায়। গত ২২ অক্টোবর ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের আয় প্রায় ২০ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। ২০২৩ সালের শুরুর পর থেকে এটিই ছিল এক দিনে সবচেয়ে বড় দরপতন।

১০ বছর মেয়াদি বন্ডের আয় এখনো ৫ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে, যেটা অনেক বিনিয়োগকারী সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন।

বিশ্বের যেসব অঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার খুব একটা প্রভাব ফেলেনি, সেখানেও চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্সে বন্ডের আয় ২০১২ সালের ইউরো অঞ্চল ঋণসংকটের সময়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে সরকার এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে যে, বিক্ষোভকারীদের দাবি পূরণের জন্য তাদের হাতে খুব কম সুযোগই অবশিষ্ট আছে। দেশটিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ নাগরিক অস্থিরতা চলছে।

আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল জাপানে বন্ডের আয় সম্প্রতি ৩০ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ সুদের হার দ্রুত বাড়ানোর চাপের মুখে রয়েছে। এটি টোকিওর সেই নীতিগত লক্ষ্যকে ব্যাহত করছে, যার আওতায় সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। এমনকি এটি বৈশ্বিক পুঁজি প্রবাহকেও উল্টে দিতে পারে।

ফিডেলিটি ইন্টারন্যাশনালের লিড পোর্টফোলিও ম্যানেজার মাইক রিডেল বলেন, বাজারব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজার কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত জার্মান বন্ড এখন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

স্থগিত বিও অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএসইসির

কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ দুই পরিচালকের পদত্যাগ

প্রিমিয়ার ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ

আমদানির ডলারের দর বেড়ে ১২৫ টাকা

অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ পাঠানো সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ, সতর্ক করল বিশ্বব্যাংক

বাণিজ্য সুরক্ষায় এফটিএ চূড়ান্ত করার তাগিদ

ব্যাংকে নতুন ঋণ প্রস্তাব তলানিতে

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার: দুই প্রতিষ্ঠানের ১০২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন

সর্বজনীন পেনশনের বার্তা তৃণমূলে পৌঁছাতে এনজিওদের সহযোগিতা চায় কর্তৃপক্ষ