হোম > বাণিজ্য

চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসায়ে আইএফআইসি ব্যাংকের ডিএমডি

রোহান রাজিব

ইকবাল পারভেজ চৌধুরী

চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসায় জড়িয়েছেন আইএফআইসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা ইকবাল পারভেজ চৌধুরী। তিনি ‘ইকবাল ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানটির নামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চট্টগ্রামের চকবাজার শাখায় একটি হিসাবও খোলা হয়, যেখানে প্রায় ৯ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে বলে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অস্বাভাবিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইকবাল পারভেজ চৌধুরী নিজেই। তবে এ ঘটনার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মনসুর মোস্তফা তাকে প্রশংসাপত্র দিয়েছেন।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইকবাল পারভেজ চৌধুরী ব্যাংকের সার্ভিস রুলের ৯ ও ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তার প্রতিষ্ঠানের নামে হওয়া লেনদেনগুলো অস্বাভাবিক ও অপ্রত্যাশিত।

আইএফআইসি ব্যাংকের চাকরিবিধিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—নিজের নামে বা অন্যের প্রতিনিধি (এজেন্ট) হিসেবে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া বা এমন কোনো কাজ পরিচালনা করা ও কোনো খণ্ডকালীন কাজ গ্রহণ বা সম্পাদন করা যাবে না। এছাড়া ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী তার অফিসিয়াল দায়িত্ব ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসা, চাকরি বা কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। কিন্তু ইকবাল পারভেজ চৌধুরী এ বিষয়ে ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেননি।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে একটি এসএমই বা ব্যবসায়িক ঋণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ‘মেসার্স ইকবাল ট্রেডার্স’ নামে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেন ইকবাল পারভেজ চৌধুরী। এরপর প্রতিষ্ঠানটির নামে ইউসিবি ব্যাংকের চকবাজার শাখায় হিসাব (০৩১২১০১০০০০০৬৯০৭) খোলা হয়। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন করা হয়।

বিএফআইইউর অনুসন্ধানের পর ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মনসুর মোস্তফার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তিনি ইকবাল পারভেজ চৌধুরীর কাছ থেকেও ব্যাখ্যা চান। জবাবে ইকবাল পারভেজ চৌধুরী বলেন, একটি এসএমই ঋণ পাওয়ার জন্য আমি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ইকবাল ট্রেডার্স নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স নিই। এরপর ইউসিবি ব্যাংকের চকবাজার শাখায় অ্যাকাউন্ট খুলি। ঋণ পাওয়ার শর্ত অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে ভালো লেনদেন থাকা প্রয়োজন ছিল। তাই আমার পরিচিত এক ব্যবসায়ী ওই অ্যাকাউন্টে তার কিছু ব্যবসায়িক লেনদেন পরিচালনা করেছিলেন। পরে আমি বুঝতে পারি বিষয়টি আমার চাকরির নিয়মের পরিপন্থী, তখন আমি অ্যাকাউন্টের সব লেনদেন বন্ধ করে ব্যাংককে ঋণ না দেওয়ার অনুরোধ জানাই।

এ বিষয়ে এমডি সৈয়দ মনসুর মোস্তফা বিএফআইইউকে বলেন, ইকবাল পারভেজ চৌধুরী একজন সৎ ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তার ব্যাখ্যাটি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার অনুরোধ করছি। তবে তাদের এ ব্যাখ্যা আমলে নেয়নি বিএফআইইউ।

সার্বিক বিষয়ে জানতে আইএফআইসি ব্যাংকের এমডি মনসুর মোস্তফা ও ডিএমডি ইকবাল পারভেজ চৌধুরীকে ফোন করা হলে কেউ রিসিভ করেননি। পরে বিস্তারিত মেসেজ পাঠালেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

তবে ব্যাংকের ডিএমডি ও মুখপাত্র রফিকুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য বোর্ড থেকে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান। ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কাউকে রাখা হয়নি।

দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমল কত?

লক্ষ্যচ্যুত বাণিজ্যমেলা এখন বিনোদন কেন্দ্র

আরো ৫ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

টেক্সটাইল মিল বন্ধের কর্মসূচি স্থগিত

নতুন অধ্যাদেশ জারি, ঋণগ্রহীতাই ব্যাংকের মালিক

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরো বাড়ল

আলুর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, প্রণোদনা দেবে সরকার

ঋণখেলাপিদের নাম ও ছবি প্রকাশের দাবি জানিয়ে গভর্নরকে চিঠি

রমজান উপলক্ষে এক কোটি লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার

তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখনই বন্ধ হচ্ছে না