হোম > বাণিজ্য > অর্থনীতি

পিকেএসএফ পাচ্ছে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ

আবু আলী

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থায়নের লক্ষ্যে সরকার ঋণ কর্মসূচির আওতায় পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনকে (পিকেএসএফ) ৫০০ কোটি টাকা সুদযুক্ত ঋণ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ এ ঋণ অনুমোদন করেছে। গত সোমবার অর্থ বিভাগ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থ বিভাগের অধীন ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন তহবিল’-এর আওতাধীন খাত থেকে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচটি শর্তারোপ করেছে অর্থ বিভাগ।

শর্তের মধ্যে রয়েছে—পিকেএসএফের অনুকূলে বরাদ্দকৃত এই অর্থ সুদযুক্ত ঋণ হিসেবে গণ্য হবে, যা এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ আগামী ১০ বছরে ০.৫% বার্ষিক সুদে ষাণ্মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। সুবিধাভোগী পর্যায়ে সব ধরনের ফি বা চার্জসহ সর্বমোট কার্যকর বার্ষিক সুদহার কোনো অবস্থাতেই ছয় শতাংশের বেশি হবে না। সুবিধাভোগীর অনাদায়জনিত ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে। এছাড়া অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের পরিপত্র যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং নির্ধারিত খাত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থায়নের লক্ষ্যে একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী ঋণ প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফইএল) এবং পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনকে (পিকেএসএফ) মোট এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। যার মধ্যে পিকেএসএফ পাচ্ছে ৫০০ কোটি টাকা। এ ঋণের অর্থ গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম ও সৌরচালিত সেচপাম্প স্থাপনে ব্যবহার করা যাবে। তবে বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ, জমি বা শেয়ার ক্রয় কিংবা প্রশাসনিক ব্যয়ে এ অর্থ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং টেকসই জ্বালানি খাতের রূপান্তরে এ অর্থ অত্যন্ত কার্যকর ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সরকারি অর্থায়নের এটি একটি বড় পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে দেশের গ্রিন এনার্জি বা সবুজ শক্তির ক্ষেত্রকে আরো বেশি গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, ভর্তুকির চাপ হ্রাস করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার জাতীয় কৌশল বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনায় সহজ শর্তে ও স্বল্প ব্যয়ে অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। এ কর্মসূচির মোট বাজেট ১,৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১,০০০ কোটি টাকা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমএসএমই খাতের জন্য সংরক্ষিত থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা পরিচালন ঋণ থেকে সংস্থান করা হয়েছে।

পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের আমার দেশকে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পিকেএসএফ সরকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করবে। শিল্প খাতে ইডকল এবং বিআইএফএফএল কাজ করলেও আমরা মূলত গৃহস্থালির ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনায় কাজ করব। এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এর বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যার মধ্যে সেবার মান বা কোয়ালিটি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প একনেকে উঠছে আজ

দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে: বিশ্বব্যাংক

ভূমি জটিলতায় থমকে আছে দুই গ্যাস কূপের অনুসন্ধান

নতুন ঋণ পর্যালোচনায় আসছে আইএমএফ

ক্ষুদ্রঋণ গ্রাহক কল্যাণ তহবিল যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে আসছে বিধিনিষেধ

উদ্যোক্তা তৈরিতে ৭,২৪৫ কোটি টাকার ঋণ দেবে পিকেএসএফ

ইউনানের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশের একগুচ্ছ প্রস্তাব

আবারও কমল স্বর্ণ-রুপার দাম

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরির ঝুঁকি: বাংলাদেশ ব্যাংক