চাল-ডাল-চিনিসহ ৬০ পণ্যে কর কমানোর প্রস্তাব
আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় উৎসে কর ও আগাম করের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর মধ্যে চাল, ডাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, তেল, চিনিসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহের ওপর উৎসে করের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড়ের ঘোষণা এসেছে। এসব পণ্যের ওপর উৎসে করের হার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে পণ্যভেদে এসব পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ অথবা ১ শতাংশ উৎসে কর রয়েছে। উৎসে কর কমানোর ফলে এসব পণ্যের দাম কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান কমছে। এমন পরিস্থিতিতে উৎসে কর কমানোর এই ঘোষণা তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর।
এদিকে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর সংগ্রহের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ হিসাবে খুচরা বিক্রেতাকে প্রতি ১ হাজার টাকার বিপরীতে ২ টাকা কর দিতে হবে। খুচরা বিক্রেতাদের টার্নওভারের ওপর আলাদাভাবে টার্নওভার কর আরোপের কথাও বলেছেন তিনি। তবে এর পরিমাণ কত হবে, তা স্পষ্ট করেননি। ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের হয়রানিমুক্ত রাখতে এলাকা, মার্কেটভিত্তিক ব্যবসার ধরন এবং আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে একটি নির্দিষ্ট বা ফ্ল্যাট রেটে সীমিত পরিমাণ টার্নওভার কর প্রদানের বিধান করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
করমুক্ত টার্নওভার সীমা: ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের বার্ষিক ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থেকে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বর্ণ ও অলঙ্কার: জুয়েলারি ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক খাতে আনতে স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার সরবরাহের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যান্য খাত: বৈদেশিক ঋণের সুদের ওপর উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
চিকিৎসা সরঞ্জাম: কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রযুক্তি পণ্য: কম্পিউটার প্রিন্টার, মনিটর ও ফ্ল্যাশ মেমোরি আমদানিতে আগাম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ এবং স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনকারীদের কাঁচামাল আমদানিতে তা ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অটোমেশন ও রিফান্ড: ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থের সংকট কমাতে উৎসে করকে চূড়ান্ত করের পরিবর্তে ‘অগ্রিম কর’ হিসেবে গণ্য করার আন্তর্জাতিক নিয়ম চালুর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কর দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
এআরবি