হোম > বাণিজ্য > বাজার বিশ্লেষণ

রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম প্রস্তুতি

আবু আলী

আগামী রমজানে সাধারণ মানুষের স্বস্তি দিতে অগ্রিম প্রস্তুতি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রমজান এলেই নিত্যপণ্যের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। বিশেষ করে ছয়টি পণ্যের চাহিদা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রতি বছর একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, ফলে বাড়তি চাপের মুখে পড়েন রোজাদাররা। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার আগেভাগেই সতর্ক হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেগুলোর পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলা উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি রমজানকে সামনে রেখে একশ্রেণির সিন্ডিকেটের তৎপরতা দেখা যায়। এ জন্য বাজার মনিটরিং আরো জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ নজরদারি থাকবে।

অন্যদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) আগামী রমজান উপলক্ষে ১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা ও ৩,৩০০ টন খেজুর আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে কিনতে চায় টিসিবি। সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। খবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রের।

জানা গেছে, আগামী রমজান উপলক্ষে নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করবে টিসিবি। বর্তমানে টিসিবির ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৮ কার্ড সক্রিয় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী রজমান মাসে ৮৫ লাখ সক্রিয় হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কার্ডধারী পরিবারের কাছে এক কেজি ছোলা এবং ১৩ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য ১৩ লাখ সক্রিয় কার্ডধারী পরিবারের মাঝে এক কেজি খেজুর বিক্রি করবে টিসিবি। পাশাপাশি বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৪০ লাখ উপকারভোগীর কাছে এক কেজি করে খোলা ও আধা কেজি করে খেজুর ট্রাক সেলের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

প্রসঙ্গত, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রমজান শুরু হওয়ার কথা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর রোজার আগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে। দেশে পণ্যের মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও রমজান এলেই দাম বাড়তে শুরু করে, আর ভোক্তারা পড়েন ভোগান্তিতে। পরে লোক দেখানো কিছু অভিযান চালানো হলেও কোনো বছরই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর নির্বিঘ্নে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেট চক্র। এবার যাতে সেই চিত্রের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য আগেভাগেই কার্যকর মনিটরিং এবং অনিয়ম পেলেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এনডিসি আমার দেশকে বলেন, রমজানের পণ্যে দেশে কোনো সরবরাহ সংকট যাতে না হয় সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী রমজানে মানুষ যাতে স্বস্তি রমজানে রোজা পালন করতে পালেন করতে পারেন এবং ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেজন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি কোনো সংকট হবে না।

জানা গেছে, আগামী বছরের ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন, যার মধ্যে রমজান মাসে চাহিদা প্রায় তিন লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয়েছে পাঁচ লাখ টন। মসুর ডালের ক্ষেত্রে বছরে চাহিদা প্রায় সাত লাখ টন, যার মধ্যে রমজানে প্রয়োজন হয় ৮০ হাজার টন। এরই মধ্যে স্থানীয় উৎপাদন হয় প্রায় দেড় লাখ টন। চিনির বার্ষিক চাহিদা ২০-২১ লাখ টন। রমজানে প্রয়োজন হয় প্রায় তিন লাখ টন। ছোলার ক্ষেত্রে বছরে চাহিদা সর্বোচ্চ দুই লাখ টন, যার বড় অংশই রমজানে প্রয়োজন খেজুরের বার্ষিক চাহিদা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন। রমজানে প্রয়োজন হয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবারের মতো এবারও হয়তো বলা হবে—‘রমজানে নিত্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না’। কিন্তু সরকারের সে আশ্বাসে ভোক্তারা কতটুকু আশ্বস্ত হবে, সেটাই এখন বড় বিষয়। কারণ, সরকারের সব প্রস্তুতি যদি আগের সনাতনী ছকেই হয়, তবে মাঠপর্যায় থেকে হয়তো বলা হবে ‘সব ঠিক আছে’, অথচ এর মধ্যেই বড় বড় করপোরেট গ্রুপ ও আমদানিকারক কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটবে। আর মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ক্যাব থেকে বারবার বলে আসছি—আমদানি ও চাহিদার বিষয়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। আমদানি ও মজুতকৃত পণ্য দেশের সর্বত্র সরবরাহে যেকোনো বাধাকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি, মজুত ও বিতরণের সঠিক তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং চাহিদা ও জোগান বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে।

ডিমের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেট: সর্বনিম্নস্তরে ৬৫ ও সর্বোচ্চস্তরে ২১০ টাকার নতুন খুচরা মূল্য

স্বস্তি নেই ক্রেতার, দাম বেড়েছে আটা ময়দা ডিম মাছের

বাজারে সরবরাহ চেইনে বিশাল ঘাটতি, দুই দিন ধরে পণ্য দিচ্ছে না কোম্পানিগুলো

স্বস্তি নেই নিত্যপণ্যের বাজারে, বেড়েছে আটা ডিম মাছের দাম

আরো কমলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম

সবজিতে স্বস্তি মিললেও মাছ-মুরগি-ডিমে অস্বস্তি

সুপার মার্কেটেও দুর্দিন দোকানিদের

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা

সরবরাহ সংকট নাকি সিন্ডিকেট, বছরের সর্বোচ্চ চূড়ায় সবজির দাম