ঢাকা-৬ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের নথিপত্রে স্বাক্ষর করাকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এসময় দলের কর্মীদের মধ্যে কিছুটা হাতাহাতি হয়েছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের কর্মীদের ওপরে হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জামায়াতের পোলিং এজেন্টসহ অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ বিষয়ে ওর ছড়িয়ে পড়লে সূত্রাপুর থানা পুলিশ সেনাবাহিনীর ট্র্যাকিং ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং প্রিজাইডিং অফিসারের উপরে হামলার গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পড়ার সত্যতা মেলেনি।
রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। প্রিজাইডিং অফিসারের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
ঘটনার পরপরই সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান অনু, ফরিদ উদ্দিন, জাবেদ কামাল রুবেলসহ স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।
৪৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান অনু জানান, একপাক্ষিকভাবে নথিপত্র গ্রহণ করায় সন্দেহ থেকে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি, কেবল কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে।
কোতোয়ালি জোনের অতিরিক্ত কমিশনার (এসি) মো. ফজলুর হক জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র (ডকুমেন্টস) জমা দিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের বাধা দেন।
প্রিজাইডিং অফিসার শফিকুল হক বলেন, কারও ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি; শুধু কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা সরে যাই।
তিনি বলেন, জামায়াতের পোলিং এজেন্টের কার্ডে স্বাক্ষর দিতে আসায় অনুমানভিত্তিক অভিযোগ এনে একটি পক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এরপর সেখানে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। আমাদের আরেক সহকর্মীর ওপর বোতল নিক্ষেপ করা হয়। সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।