সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ইসরাইলে আয়োজিত কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মহাসম্মেলনে বহিরাগত ও ইহুদিদের ব্যাপক উপস্থিতির খবর প্রকাশিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।
রোববার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক জরুরি বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের মাটিতে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের এমন বৃহৎ সমাবেশ এবং সেখানে জায়নবাদী ইহুদি সম্প্রদায়ের ব্যাপক উপস্থিতি ও প্রকাশ্য সখ্যতা বিশ্ব মুসলিমের জন্য এক গুরুতর সংকেত। বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতি ও মুসলিম বিশ্বের বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে কোনো অবস্থাতেই সাধারণ বা বিচ্ছিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর নেপথ্যে থাকা উদ্দেশ্য, গভীর ষড়যন্ত্র, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং মুসলিম সমাজে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে গভীর বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।’
তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ‘ইসরাইলে কাদিয়ানিদের এই মহাসম্মেলন কি নতুন কোনো বার্তা দিচ্ছে? ভবিষ্যতে এসব যোগাযোগ যদি প্রচারণা, তথ্যযুদ্ধ, জনমত প্রভাবিত করা কিংবা মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি ও অনৈক্য সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। তাই এখন থেকেই এই সংক্রান্ত ঘটনাবলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং নিরপেক্ষ গবেষণা করা দরকার।’
মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী আরো জোর দিয়ে বলেন, ‘কাদিয়ানী ফিতনা ও তাদের কৌশলগত অবস্থান কেবল কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের একক সমস্যা নয়; বরং এটি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ঈমান ও আকিদার ওপর একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতএব, বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত আলেম-ওলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ, দাঈ ও গবেষকদের এখনই আবেগ বা গুজবের ওপর নির্ভর না করে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে উম্মাহকে সচেতন করতে হবে। যেকোনো ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ কোনো ইঙ্গিতকে অবহেলা করাও মারাত্মক ভুল।’
বিবৃতির শেষে তিনি মুসলিম উম্মাহর আকিদা ও নিরাপত্তার স্বার্থে আন্তর্জাতিক সকল তৎপরতার ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান এবং সর্বস্তরের তাওহিদী জনতাকে শান্ত থেকে সচেতনতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনার অনুরোধ জানান।