রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালের আলু বাজারের মিষ্টি গলিতে ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।
আহত শিক্ষার্থী মো. পাভেল হোসেন (২৩) দাবি করেছেন, এক শ্রমিকের কাছ থেকে জোর করে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা দেখে তিনি বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বংশাল থানার আলু বাজার এলাকার মিষ্টি গলিতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় পাভেলকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। আহত পাভেল হোসেন ধানমন্ডির ডিআইআইটি (DIIT) ইউনিভার্সিটির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ওয়ারীর জুলিয়া টুলি এলাকার বাসিন্দা এবং হোটেল ব্যবসায়ী আতাউর রহমানের ছেলে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাভেল জানান, বন্ধু মোস্তাকিন আহমেদের সঙ্গে আলুবাজারের মিষ্টি গলিতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন বখাটে যুবক একটি কারখানার শ্রমিককে ঘিরে নেশার টাকার জন্য তার মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি দেখে তিনি এগিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করেন এবং একজনকে ধরে ফেলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবক পকেট থেকে একটি ধারালো অস্ত্র বের করে তার বাম পায়ের হাঁটুর ওপরে আঘাত করে। হামলার পর দুর্বৃত্তরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পাভেলের বন্ধু মোস্তাকিন আহমেদ বলেন, পুরো ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় পাভেল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছুরিকাঘাতে আহত এক শিক্ষার্থীকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বংশাল ও পুরান ঢাকার কয়েকটি ব্যস্ত গলি ও সড়কে সন্ধ্যার পর ছিনতাই, মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া এবং ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রতিবাদ করেন না। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।