আমার দেশ-এর ইমরানের শারীরিক অবস্থার অবনতি
গাজীপুরের বড়বাড়ী এলাকায় সেনাবাহিনীর বাসের ধাক্কায় আহত আমার দেশ-এর স্টাফ রিপোর্টার ইমরান হোসেনের (২৩) শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহআলীতে বোনের বাসায় বিশ্রামরত অবস্থায় তার অবনতি হয়।
এর আগে গত বুধবার দুর্ঘটনায় আহত হন ইমরান। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে নামকাওয়াস্তে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় রাখার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের কোনো শোনেননি।
ঘটনার পরই ইমরানের মাথায় প্রচণ্ড রক্তরক্ষণ শুরু হয়। পাশাপাশি তিনি কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন।
গতকাল অবস্থার অবনতি হলে ইমরানের পরিবারের সদস্যরা তাকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে এক্স-রে করার পর চিকিৎসকরা জানান, তার কাঁধের হাড় ভেঙে গেছে। তাকে জরুরি অপারেশন করাও লাগতে পারে। কিন্তু ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করতে রাজি হননি। বারবার সেখানকার চিকিৎসকরা বলতে থাকেন যে, তাকে বাসায় নিয়ে চলে যেতে।
অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের ইমরানকে ভর্তির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। অনেক টালবাহানার পর তাকে ঢামেক কর্তৃপক্ষ ভর্তি করিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার মাথা থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। ইমরানকে নিয়ে চিন্তিত তারা।
এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার আসাদুজ্জামানকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে গতকাল সকালে ইমরানের বোনের বাসায় মিলিটারি পুলিশের দুই সদস্য হাসিব ও সুমন যান। ওই সময় ইমরানের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। তারপরও তাদের ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে তার কাছে ঘটনা জানতে চান। কিন্তু ইমরান কিছু বলতে পারছিলেন না। পরিবারের সদস্যদের বাধার মুখে তারা সেখান থেকে তারা ফিরে আসেন এবং তারা ইমরানের সুষ্ঠু চিকিৎসার জন্য মিলিটারি পুলিশের কাছে দাবি করেন। পরে দুই পুলিশ সদস্য পরিবারের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলার আশ্বাস দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকা সিএনজি অটো পার্টসের মালিক মাসুম জানান, গত বুধবার সকালে গাজীপুরের বোর্ডবাজার বড়বাড়ী জমজম ফিলিং স্টেশনের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন ইমরান। এ সময় ঢাকাগামী সেনাবাহিনীর একটি দ্রুতগতির বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ইমরান রাস্তায় পড়ে যান এবং মাথা, হাত, পা ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত পান। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে তায়রুননেছা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
তায়রুননেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, সাংবাদিক ইমরান মাথা, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন।
ইমরানের গ্রামের বাসিন্দা সবুজ জানান, ইমরান আমার কাছে গাজীপুরে বড়বাড়িতে আসছিল। ওই সময় সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কায় সে আহত হয়। পরে খবর পেয়ে আমি এবং আরো তিনজন মিলে তাকে তায়রুননেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই সময় তার জ্ঞান ছিল না। আমরা দুর্ঘটনাটি বড় মনে করেছি। কারণ, তার পালস পাচ্ছিলাম না। পরে ৯৯৯ ফোন দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।