হোম > রাজধানী

ঢাবিতে ‘পলাশী পরবর্তী ক্ষমতা বদল ও বিভাজনের রাজনীতি’ শীর্ষক সেমিনার

আমার দেশ অনলাইন

সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজ (সিবিএস)-এর উদ্যোগে ‘পলাশী-উত্তর বাংলা: ক্ষমতার পালাবদল এবং বিভাজনের রাজনীতির বিকাশ’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে আয়োজিত এ সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক, শিক্ষক, চিন্তক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বক্তারা পলাশীর যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তর এবং এর দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তিনি বলেন, “১৭৫৭ সালের ২৩ জুনের ঘটনা শুধু একজন নবাবের পতন বা একটি কোম্পানির বিজয় ছিল না; এটি ছিল বাংলার বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়া ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা।”

মূল প্রবন্ধ ও আলোচনা পর্বে তিনজন গবেষক পলাশী-পরবর্তী বাংলার ইতিহাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

প্রথম বক্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন সমসাময়িক ফার্সি ভাষায় রচিত ঐতিহাসিক গ্রন্থের আলোকে সিরাজউদ্দৌলার ভাবমূর্তি নির্মাণের বিষয়টি বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক ইতিহাসচর্চার মাধ্যমে ব্রিটিশরা সিরাজউদ্দৌলাকে কখনো ‘খলনায়ক’, কখনো ‘ট্র্যাজিক নায়ক’ হিসেবে উপস্থাপন করে নিজেদের শাসনের বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল।

তিনি আরও বলেন, লর্ড ক্লাইভ, জগৎ শেঠ, রায় দুর্লভ ও উমিচাঁদদের ভূমিকা শুধু ব্যক্তিগত বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বরং তা ছিল উদীয়মান বণিক পুঁজি ও ক্ষয়িষ্ণু সামন্ততান্ত্রিক শক্তির রাজনৈতিক সমঝোতার বহিঃপ্রকাশ।

দ্বিতীয় বক্তা জান্নাতে গুলশান তার আলোচনায় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্র স্থানান্তরের প্রক্রিয়া এবং এর সামাজিক-রাজনৈতিক প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, ভূমি সংস্কার এবং ইংরেজি শিক্ষার সুযোগকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণিকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হলেও অন্য অংশকে প্রান্তিক করে রাখা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক অবিশ্বাসে রূপ নেয়।

তৃতীয় বক্তা ইমরুল হাসান বলেন, ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী শিক্ষা, ভাষা ও চিন্তার জগতে সাংস্কৃতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর মানসিক কাঠামোকে প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় নিজস্ব ঐতিহ্যকে হীন এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বিভাজনমূলক রাজনীতি পরবর্তীকালে হিন্দু-মুসলিম বিভেদকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগের অন্যতম ভিত্তি তৈরি করে।

আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারী গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইতিহাসের আলোকে বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সামাজিক বিভাজনের নানা দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, পলাশীর যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক পরাজয় নয়; এটি ছিল বাংলার সমাজ, ইতিহাসচর্চা ও সংস্কৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী ঔপনিবেশিক প্রভাবের সূচনা। এ ধরনের আলোচনা ইতিহাসকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝতে এবং বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে তার সম্পর্ক অনুধাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

রাজধানীতে নারী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের তিন নেতা–কর্মীসহ আটক ৬৬

মহররম সম্পর্কে সচেতনতা গড়তে ঢাকার মসজিদে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ঢাকামুখী বাসে ৮ হাজার ইয়াবাসহ চার সদস্য ডিএনসির জালে

নিউমার্কেটে আইনজীবীর চেম্বারে আগুন, দগ্ধ হয়ে দুজনের মৃত্যু

বনানীতে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে আহত

রাজধানীর কাঁটাবনে আবাসিক ভবনে আগুন, নিহত ২

রাজধানীতে নারী চিকিৎসকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

ইসকনকে খুশি করতে হাফেজ নাঈমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে

ডুরার নতুন নেতৃত্বে শাহজাহান মোল্লা ও জহিরুল ইসলাম