পবিত্র মহররম মাস ও আশুরাকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কার দূর করে নতুন প্রজন্মের মাঝে সহিহ ইসলামী জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে রাজধানীর হাতিরপুলের ইস্টার্ণ প্লাজা জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘মহররম কুইজ-২০২৬’।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের মহররম ও আশুরা বিষয়ে ১০০টি প্রশ্নোত্তরের ওপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। পরে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারীদের পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
আরবি বছরের সূচনা হয়েছে পবিত্র মহররম মাসের মাধ্যমে। চলছে হিজরি ১৪৪৮ সাল। তবে দুঃখজনকভাবে এই মাসকে ঘিরে সমাজে নানা ভুল ধারণা, কুসংস্কার ও ভিত্তিহীন প্রচলন ছড়িয়ে রয়েছে। আশুরাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আয়োজন থাকলেও মহররম মাসের প্রকৃত তাৎপর্য, করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে অনেকের মধ্যেই রয়েছে জানার আগ্রহ।
এসব বিষয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে সহিহ ইসলামী জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে রাজধানীর হাতিরপুলে অবস্থিত ইস্টার্ণ প্লাজা জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে ‘মহররম কুইজ-২০২৬’।
আয়োজনটির অংশ হিসেবে মসজিদের সম্মানিত খতিব শাইখ মুফতি নিজাম বিন মুহিব মহররম ও আশুরা বিষয়ে ১০০টি প্রশ্ন এবং তার উত্তর প্রস্তুত করেন। পরে সেগুলো শিশুদের মুখস্থ করানো হয়। গত ২৫ জুন অনুষ্ঠিত হয় ৫০ নম্বরের লিখিত এবং ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা।
প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। এ সময় বিজয়ীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে খতিব শাইখ মুফতি নিজাম বিন মুহিব বলেন, দেশের প্রতিটি মসজিদে এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলে নতুন প্রজন্ম কুসংস্কারমুক্ত হয়ে সহিহ দ্বীনি জ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস এবং সত্যের আলোয় আলোকিত হয়ে গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া গেলে তারা মহররম ও আশুরাকে ঘিরে প্রচলিত ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে দূরে থাকবে এবং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করতে সক্ষম হবে।
পবিত্র মহররম ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং আল্লাহ তাআলার কাছে সম্মানিত চারটি পবিত্র মাসের অন্যতম। এ মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরার দিনটি ইসলামে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। সহিহ হাদিসে আশুরার রোজা রাখার প্রতি বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের (ছোট) গুনাহের কাফফারা হওয়ার আশা করা যায়। তাই মহররম ও আশুরাকে ঘিরে কুসংস্কার নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়াই একজন মুসলিমের করণীয়।