রাজধানীর মিরপুরে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড দখল করে গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবি এবং মালিকদের ওপর হামলার অভিযোগ করে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন দাবি জানিয়েছে, এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী।
গত ৫ অক্টোবর অস্ত্র দেখিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহাব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, শামীম ও মজিবর রহমানসহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন ব্যক্তি স্ট্যান্ড দখল এবং ফুটপাত থেকে চাঁদা দাবির সঙ্গে জড়িত।
সংগঠনটির অভিযোগ, লেগুনাপ্রতি মালিকদের কাছে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ছাড়া লেগুনার মালিক ইয়াকুব আলী, নজরুল ইসলাম ও বাবুলের ওপর হামলা করা হয়েছে। ইয়াকুব আলীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও চিকিৎসা প্রতিবেদন সংগঠনের কাছে রয়েছে বলে জানানো হয়।
ইয়াকুব আলী বলেন, তাদের কাছে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এসব তথ্য-প্রমাণ নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থার কাছে উপস্থাপন করতে তারা প্রস্তুত। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে দারুস সালাম থানায় গেলে ইয়াকুব আলীর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। এর আগে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হলেও পরবর্তী সময়ে আদালতের কার্যক্রম শেষে তিনি মুক্তি পান বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড দখলের অভিযোগ তদন্ত, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, চাঁদা দাবি ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি লেগুনার মালিক ও চালকদের নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক প্রভাব যেন তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে। সংঘাত বা প্রতিশোধ নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ চান তারা।