রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে মাদকবিরোধী কড়াকড়ি বাড়তেই রুট বদলেছিল কারবারিরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। সাধারণ যাত্রীর বেশে শপিং ব্যাগ হাতে বাসে চেপে বসা ‘মাদক সম্রাট’ বাবুল হোসেন ওরফে বাবু (৪৫) এখন শ্রীঘরে।
মঙ্গলবার দুপুরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মেহেদী হাসান জানান, কেরাণীগঞ্জের বাসিন্দা বাবু দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে ইয়াবা সরবরাহের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তিনি টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে প্রথমে কেরাণীগঞ্জে মজুত করতেন। সেখান থেকে বাসযোগে দক্ষিণবঙ্গে পৌঁছে দিতেন মাদকের বড় বড় চালান। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি ‘লিটন ট্রাভেলস’-এর একটি বাসে করে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। খবর পেয়ে ডিএনসি’র সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নির্দেশনায় একটি বিশেষ দল ধোলাইপাড় গোলচত্বর এলাকায় ওত পেতে থাকে।
নাসির উদ্দিন সর্দার মার্কেটের সামনে বাসটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন গোয়েন্দারা। এ সময় সাধারণ যাত্রীর আসনে বসে থাকা বাবুর আচরণে সন্দেহ হয়। পরে তাকে বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি করা হলে তার হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগের ভেতর বিশেষ কায়দায় স্কচটেপ ও টিস্যু দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ১৬ হাজার পিস ইয়াবা। জব্দ করা হয় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু স্বীকার করেছেন, তিনি মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও টেকনাফের ডিলারদের থেকে মাদক সংগ্রহ করে যশোর, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরের পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতেন। মহাসড়কে নজরদারি এড়াতে তিনি প্রতিনিয়ত রুট বদল করতেন। তার এই চক্রে আরও রাঘববোয়াল জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডিএমপি যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করেছেন উপ-পরিদর্শক মো. আবু নাসের। ডিএনসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা এবং মাদক পাচারের রুট ভেঙে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।