হোম > রাজধানী > ঢাকা দক্ষিণ

অনিয়মের আঁতুড়ঘর কলাতিয়া ডিগ্রি কলেজ

রাকিব হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ

নিয়ম-নীতির বালাই নেই কলাতিয়া ডিগ্রি কলেজে। দীর্ঘদিনের অনিয়মই প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মে পরিণত হয়েছে। অধ্যক্ষ থেকে অবসর নিয়ে এখন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের আসনে আসীন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেরানীগঞ্জ উপজেলার সভাপতি মো. লিয়াকত আলী। এ যেন এক অনিয়মের আঁতুড়ঘর।

অধ্যক্ষ লিয়াকতের বিরুদ্ধে রয়েছে স্বজনপ্রীতি, অর্থ আত্মসাৎ, দলীয়করণসহ শতাধিক অভিযোগ। তার অদক্ষতায় শিক্ষক ও ছাত্র সংকটে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান অনেকটাই নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রভাষক।

সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নের ৬০ গ্রাম, হযরতপুর ইউনিয়নের ৩২ এবং তারানগর ইউনিয়নের ১৯ গ্রামের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে কলাতিয়া ডিগ্রি কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান কলেজটির উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। কলেজটির প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন ছাদেক আলী। তিনি ১৯৯৯ সালে অবসর নেন। এরপর ১৯৯৯-২০০৩ সাল পর্যন্ত এমদাদুল হক, কাওসার আলী ও জহিরুল ইসলাম অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৪ সালে লিয়াকত আলী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১২ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে অবসরে যান তিনি।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে অধ্যক্ষ লিয়াকত আলী ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেরানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি এবং ফ্যাসিস্ট পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমানের নিকটাত্মীয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি মমতাজের পক্ষে নৌকা মার্কায় মিছিল-মিটিং ও গণসংযোগ করার অভিযোগ রয়েছে।

তার অদক্ষতা, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির কারণে কলেজের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার মান কমেছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, কলেজের অধ্যক্ষ লিয়াকত আলী গত ৩১ ডিসেম্বর অবসরে গেছেন। এরপরও তিনি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা আইন ও নিয়মবহির্ভূত।

কলেজের এক শিক্ষক জানান, চার বছর আগে ভাইস প্রিন্সিপালের পদ শূন্য হয়েছে, অফিস সহকারী শেফায়েতুল্লাহ ১০ বছর আগে মারা গেছেন, অফিস সহায়ক মোহাম্মদ আলীকে দিয়ে সুইপারের কাজ করানো হয়। পছন্দের লোক দিয়ে অফিস পরিচালনা করেন তিনি। অধ্যক্ষ লিয়াকতের আইটি নলেজ না থাকায় তিনি কলেজের আইটি বিভাগকে কোনো গুরুত্ব দেননি। কলেজের আইসিটি ল্যাব পরিত্যক্ত পড়ে আছে।

শিক্ষকরা জানান, গত ১০ বছরেও আইসিটি শিক্ষক নেওয়া হয়নি কলেজটিতে। অথচ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আইসিটি খাতের টাকা নেওয়া হয়েছে এবং এই টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। কিছুদিন আগে মাহবুবুর রহমান নামে একজন আইসিটি শিক্ষক নেওয়া হলেও আইসিটি ক্লাস নিচ্ছে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবিদ হোসেনের স্ত্রী সানজিদা খানম।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অধ্যক্ষ লিয়াকত আলীর অদক্ষতার কারণে কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন হচ্ছে না। লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে বিএনপি ও আওয়ামী শাসনামলে দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিজের ইচ্ছামত শিক্ষক প্রতিনিধি বাছাই করেন। তার বিরুদ্ধে কলাতিয়া কলেজ মাঠের বিপরীতে স্কুল ও কলেজের জমিতে প্রতিষ্ঠিত সুপার মার্কেটের দোকান বরাদ্দে দুর্নীতি ও দোকান ভাড়ার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, ওই মার্কেটের নিচতলার ৫৪টি দোকান থেকে এক লাখ ১১ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া আদায় হয়। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ৪৪টি দোকান। এই দোকানগুলো থেকে কত টাকা আদায় হয়, তার নির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডের টাকা নেওয়া হয়েছে রসিদ ছাড়া। জরিমানার টাকারও হিসাব রাখা হয় না কলেজে। গত কয়েক বছর ধরে লাইব্রেরির জন্য বই কেনা হয় না, অথচ প্রতি বছরই বই কেনার বাজেট নেওয়া হয়। ছাত্রীদের কমনরুম নেই, নেই ক্যান্টিনও।

কলেজের এক প্রভাষক জানান, কলাতিয়া ডিগ্রি কলেজের অব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিনের। গত বছরের ডিসেম্বরে অধ্যক্ষ লিয়াকত আলী অবসরে গেছেন। এরপর তিনি অনিয়মের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হয়ে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন নিচ্ছেন। যা আমাদের মতো গরিব কলেজের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কলাতিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার মান নিম্নমুখী হওয়ায় ছাত্রছাত্রী ভর্তি কমে যাচ্ছে। যোগ্যতা না থাকলেও কলেজ পরিচালনায় আত্মীয়করণ করা হচ্ছে। স্কুল শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে বসানো হয়েছে মাহফুজা বেগমকে। মাহফুজার ভাই আরিফুর রহমান মিন্টু কলেজ শাখার বিদ্যোৎসাহী সদস্য। মিন্টুর স্ত্রী পারভীন আক্তার কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি। তার ছোট বোনের ভাসুর মোহাম্মদ আলী অভি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি। চাচাতো বোন নাসিমাকে স্কুল শাখায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে লিয়াকত আলী বিদ্যালয়কে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন।

এ ব্যাপারে কলাতিয়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমার দেশকে জানান, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি হিসেবে আমার নামে একটা ব্যানার করা হয়েছিল, তা আমার নিজের ইচ্ছায় হয়নি। আওয়ামী লীগের লোকজন করেছে। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ করার কোনো প্রমাণ নেই। সাবেক ডিআইজি হাবিবুর রহমান তার নিকটাত্মীয় এ কথা তিনি স্বীকার করেছেন।

দলীয়করণের ব্যাপারে তিনি বলেন, তারা যে সবাই সবার আত্মীয় এটা আমার জানা নেই। কলেজ ও স্কুল শাখার মার্কেটের টাকা আত্মসাৎ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্কেটের ভাড়া হিসেবে আদায় করা ২৩ লাখ টাকা ঢাকা ব্যাংকের কলাতিয়া শাখায় জমা আছে।

অবসরে যাওয়ার পর তার চাকরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দুই বছর বৃদ্ধি করেছে বলে জানান তিনি। তবে কেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লেখেন— এর সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। দিতে পারেননি তার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগের সঠিক জবাব।

কলাতিয়া ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী অভির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিগত দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আওয়ামী লীগ দলীয়করণ করেছে। প্রতিষ্ঠানের সবকিছু এতদিন আওয়ামী লীগের মতোই চলছে । আমি একমাস আগে সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার মান উন্নয়ন, সাহিত্য সংস্কৃতি ও কলেজের আয়-ব্যয় হিসাব সংক্রান্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটি বিগত দিনের অনিয়ম খুঁজতে কাজ শুরু করছে।

ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারাবন্দির মৃত্যু

সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ চলছেই

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে জোরদার কার্যক্রম চলছে: ডিএসসিসি প্রশাসক

কোরবানি দিতে গিয়ে রাজধানীতে আহত ৮০

জুলাই শহীদ পরিবারের মাঝে জামায়াত এমপির কোরবানির পশু বিতরণ

যাত্রাবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় আরো একজন গ্রেপ্তার

অবৈধ চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে জনকণ্ঠ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি

ঢাকা শহরকে আধুনিক ক্লিন ও গ্রিন সিটি গড়তে কাজ করছে ডিএসসিসি