সুবিন্যস্ত ও বৈচিত্র্যময় ব্যবসা, সুশাসন এবং গ্রাহকবান্ধব কৌশলের ওপর ভর করে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা, পরিচালন দক্ষতা এবং ব্যালেন্স শিট প্রবৃদ্ধিতে দুর্দান্ত ফলাফল অর্জন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।
২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত ৯ মাসের হিসাব অনুযায়ী, অঙ্গপ্রতিষ্ঠানসহ সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা (এনপিএটি) ৩৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে যেখানে নিট মুনাফা ছিল ১,৫৩৬ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,১২১ কোটি টাকায়।
এককভাবে (Standalone) বিবেচনা করলে, ব্র্যাক ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১,৫৮৪ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১,০৫৫ কোটি টাকা।
সামষ্টিক অর্থনীতি এবং ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি সত্ত্বেও ব্র্যাক ব্যাংক খাতের অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে এগিয়ে থেকে ব্যালেন্স শিটে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ব্যাংকটির গ্রাহক আমানত বেড়েছে ১৬% এবং গ্রাহক ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৭%।
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল রূপান্তরে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংকটি পরিচালন দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ফলে, ব্যাংকটির খরচ ও আয়ের অনুপাত (কস্ট-টু-ইনকাম রেশিও) ২০২৫ সালের ৪৬% থেকে কমে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ৪১% হয়েছে।
২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্র্যাক ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য আর্থিক সাফল্য:
• সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২০২৫ সালের একই সময়ের ৫.২৯ টাকার তুলনায় ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৭০ টাকায়।
• সমন্বিত নিট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের ৪৪.৮৪ টাকার তুলনায় ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬.৪০ টাকায়।
• ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ব্র্যাক ব্যাংকের একক গ্রাহক আমানত ১৬% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কৌশল এবং গ্রাহক আস্থার প্রতিফলন।
• সমন্বিত রিটার্ন অন ইক্যুইটি (আরওই) এবং রিটার্ন অন অ্যাসেটস (আরওএ) যথাক্রমে ২০.২৮% এবং ১.৬৫%-এ উন্নীত হয়েছে।
• ইন্টারেস্ট ইনকাম এবং নন-ফান্ডেড আয় বৃদ্ধির ফলে ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় মোট সমন্বিত আয় ২৬% বৃদ্ধি পেয়েছে।
• ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মতোই ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকেও ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ২.২৭%-তে স্থিতিশীল রয়েছে।
ব্র্যাক ব্যাংকের এমন চমৎকার আর্থিক ফলাফল সম্পর্কে ব্যাংকটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “আমাদের এমন লক্ষণীয় সাফল্য আমাদের ব্যবসায়িক মডেলের শক্তি, সুশাসন এবং সুশৃঙ্খল কর্মপরিকল্পনারই প্রতিফলন। গ্রাহকদের অবিচল আস্থার কারণেই আমরা খেলাপি ঋণের হার সর্বনিম্ন রেখে খাতের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকতে পেরেছি। আমরা আমাদের গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার এবং দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি ভ্যালু তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে যাবো।”
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট গ্রাহক আমানতের পরিমাণ ১,০৩,০৯১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং প্রদত্ত ঋণের পরিমাণ পৌঁছেছে ৭৭,৯৪৭ কোটি টাকায়। এর ফলে ব্যাংকের মোট ফান্ড আন্ডার ম্যানেজমেন্টের (এফইউএম) পরিমাণ দাঁড়িয়ে হয়েছে ১,৮১,০৩৮ কোটি টাকারও বেশি।
ব্র্যাক ব্যাংক কর্পোরেট, এসএমই এবং রিটেইল ব্যাংকিং— সব খাতেই সুষম প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে এবং একই সাথে ব্যাংকিং খাতের অন্যতম সর্বনিম্ন খেলাপি ঋণের রেকর্ড ধরে রেখেছে। মূলত শক্তিশালী ব্যালেন্স শিট প্রবৃদ্ধি, উন্নত পরিচালন দক্ষতা, বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও এবং সুশৃঙ্খল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাই ব্যাংকটির এই শক্তিশালী পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
তারেক রেফাত উল্লাহ খান আরও বলেন, “আমাদের গ্রাহকদের আস্থা, পরিচালনা পর্ষদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা এবং আমাদের সহকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। আমরা সুশাসন, উদ্ভাবন, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকসেবার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে আমাদের ব্যবসার এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”