উচ্চশিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তর কার্যকর করতে প্রথমে মানসিকতা, মূল্যবোধ ও দায়িত্বের প্রতি অঙ্গীকারে পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের নবনিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাকিবুল হক। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও নিরবচ্ছিন্ন শেখার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কক্সবাজারের একটি হোটেলে পাঠ্যক্রম উন্নয়নবিষয়ক চার দিনব্যাপী ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি-৪)’-এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষক এই প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
অধ্যাপক রাকিবুল হক বলেন, সিনিয়র শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা তরুণ শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জুনিয়র শিক্ষকদেরও পরামর্শ ও নতুন ধারণা গ্রহণে উন্মুক্ত থাকতে হবে।’ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা শুধু ট্রেইনার নন; আপনারা মেন্টর, রোল মডেল এবং পরিবর্তনের কারিগর।” অর্জিত জ্ঞান অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে পাঠদান ও শিখনের মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, এই উদ্যোগের আওতায় বেশ কিছু মাস্টার ট্রেইনার ও ন্যাশনাল ট্রেইনারের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ হাজার শিক্ষকের শিক্ষাদানের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবে হিট প্রকল্প।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমির (ইউটিটিএ) ডিন অব একাডেমিক অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন হিট প্রকল্পের ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম। আরও বক্তব্য দেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হেড অব এডুকেশন তৌফিক হাসান, অ্যাডভান্স এইচইর সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট বেন ব্রাবন এবং মাস্টার ট্রেইনার ও প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) হিট প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। জুনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় গত ২৪ অক্টোবর শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।