বড় ধরনের অসুস্থতার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সঞ্চয় এবং প্রয়োজনের সময় সহজে অর্থ ব্যবহারের সুবিধা দিতে নতুন স্বাস্থ্যবীমা চালু করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। ‘মেটলাইফ হেলথ সেভিংস প্ল্যান’ (এমএইচএসপি) নামে চালু করা এ বীমার মাধ্যমে একসঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা-কেন্দ্রিক সঞ্চয় ও চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটলাইফ বাংলাদেশের মতে, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশের পরিবারগুলো প্রায়ই বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়ে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে বীমা সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। এ বাস্তবতায় ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য আর্থিক প্রস্তুতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন এ পণ্যটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রচলিত স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি ‘মেটলাইফ হেলথ সেভিংস প্ল্যান’-এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য আলাদা তহবিল গড়ে তুলতে পারবেন। একই সঙ্গে গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে বীমার আওতাভুক্ত আর্থিক সুরক্ষাও পাওয়া যাবে।
নতুন এ স্বাস্থ্যবীমায় ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনসহ নীতিমালায় নির্ধারিত অন্যান্য গুরুতর অসুস্থতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার কথা জানিয়েছে মেটলাইফ। কোন কোন রোগ ও পরিস্থিতি এ সুবিধার আওতায় থাকবে, তা বীমার শর্তাবলিতে নির্ধারণ করা থাকবে।
এ স্বাস্থ্যবীমার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ‘মেটলাইফ হেলথ ওয়ালেট’। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বীমার মেয়াদজুড়ে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ এ ওয়ালেটে জমা হবে, যা গ্রাহকেরা স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করতে পারবেন।
এ সুবিধা ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের একটি বিশেষ স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে। বীমার শর্ত অনুযায়ী এ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি নির্ধারিত চিকিৎসাকেন্দ্রে বিশেষ ছাড় ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
মেটলাইফ বলছে, স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত ব্যয় সহজে মেটানোর সুযোগের পাশাপাশি হেলথ ওয়ালেট গ্রাহকদের ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য আর্থিক প্রস্তুতি গড়ে তুলতেও সহায়তা করবে। এর ফলে চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলে তুলনামূলক সহজ ও সাশ্রয়ীভাবে ব্যয় মেটানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এ বিষয়ে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমাদ বলেন, “স্বাস্থ্যসেবার খরচ মেটানো বর্তমানে যেকোনো পরিবারের জন্য অন্যতম একটি চিন্তার কারণ। এই ধরনের ব্যয়ের জন্য আগে থেকেই যেন প্রস্তুতি নেওয়া যায়, সেই উদ্দেশ্যেই আমরা ‘এমএইচএসপি’ নিয়ে এসেছি।”
তিনি বলেন, “এ সেবার মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এর মাধ্যমে এক বীমাতেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্দিষ্ট সঞ্চয় এবং চিকিৎসা তহবিলের সুবিধা সব একসঙ্গে থাকছে। আমাদের গ্রাহকেরা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন মেটাতে নির্দিষ্ট একটি তহবিল গড়ে তুলতে পারবেন, প্রয়োজনের সময় ‘হেলথ ওয়ালেট’-এর মাধ্যমে তা ব্যবহার করতে পারবেন এবং বড় ধরনের অসুস্থতার ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন।”
আলা আহমাদ আরও বলেন, এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা আর্থিকভাবে আরও বেশি আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শান্তির সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন।
মেটলাইফ বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশজুড়ে ১০ লাখের বেশি ব্যক্তিগত গ্রাহক এবং ৯০০-এর বেশি করপোরেট গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তারা ১ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করেছে। এর আগে ২০২৫ সালে মেটলাইফ বাংলাদেশের বীমা দাবি পরিশোধের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তাদের দাবি পরিশোধের পরিমাণ সর্বোচ্চ।
মেটলাইফ বাংলাদেশের দাবি নিষ্পত্তির হার ৯৮ শতাংশের বেশি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রাহক ও তাঁদের পরিবারের জন্য আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রাখছে।
‘মেটলাইফ হেলথ সেভিংস প্ল্যান’-এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য প্রস্তুত হতে আগ্রহী গ্রাহকেরা মেটলাইফের এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। পণ্যটির বিস্তারিত তথ্য ও বীমার শর্তাবলি জানতে মেটলাইফ বাংলাদেশের ওয়েবসাইটেও তথ্য পাওয়া যাবে।