দেশের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রিফাইন্যান্স স্কিমে অংশ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি.। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির আওতায় ‘ক্লাস্টার ফাইন্যান্সিং স্কিম’ এবং ‘এফএসএফডিএমএসএমই’ স্কিমের মাধ্যমে দেশের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহায়তা দেওয়া হবে। উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য হলো সিএমএসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করা, উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে গঠিত ১,৫০০ কোটি টাকার ঘূর্ণায়মান ফান্ডের আওতায় পরিচালিত ‘এফএসএফডিএমএসএমই’ স্কিমের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে স্বল্প সুদে অর্থায়ন সহায়তা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ৩,০০০ কোটি টাকার ‘ক্লাস্টার ফাইন্যান্সিং স্কিম’ ভৌগোলিকভাবে একত্রে অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা যৌথ সম্পদ ব্যবহার, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হুসনে আরা শিখা এবং পরিচালক নওশাদ মুস্তাফা।
প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাক্টিং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ফয়সাল রহমান, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম. নাজিম এ. চৌধুরী এবং হেড অব স্মল বিজনেস অ্যান্ড রিফাইন্যান্স শেখ নুর আলম।
অনুষ্ঠানে ফয়সাল রহমান বলেন,“সিএমএসএমই খাত আমাদের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই খাতের টেকসই উন্নয়ন ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। এই রিফাইন্যান্স স্কিমগুলোর মাধ্যমে আমরা শুধু অর্থায়নই নয়, বরং উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নেও সহায়তা করতে চাই। বিশেষ করে ক্লাস্টারভিত্তিক উদ্যোগগুলোতে আমরা অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি, যেখানে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন এবং বাজার সম্প্রসারণ আরও ত্বরান্বিত হবে।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক উভয় প্রতিষ্ঠানই নীতিমালা অনুসরণ করে স্কিমগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সিএমএসএমই খাতে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।