হোম > কর্পোরেট

সরকার ও এনজিওর যৌথ উদ্যোগেই নিশ্চিত হবে সাশ্রয়ী চোখের চিকিৎসা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আমার দেশ অনলাইন

সরকার ও এনজিওগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চোখের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত এমপি।

তিনি বলেন, সময়মতো চোখের যত্ন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে দৃষ্টিজনিত অনেক সমস্যা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করে চোখের স্বাস্থ্যসেবা সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিআইআরডিএপ মিলনায়তনে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথ ইন বাংলাদেশ এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইওএইচ) যৌথ উদ্যোগে ‘লাভ ইয়োর আইজ’ বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে র‍্যালির মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত এমপি। পরে ড. দুর্গা পি. পাওডিয়াল কনফারেন্স হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চক্ষুস্বাস্থ্য, সবার জন্য চোখের চিকিৎসার সুযোগ এবং চোখের যত্নের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এম. এ. মুহিত বলেন, “কাজ করা ও শেখা, নিরাপদে চলাফেরা এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য ভালো দৃষ্টিশক্তি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সময়মতো চোখের যত্ন ও চিকিৎসা পেলে দৃষ্টিজনিত অনেক সমস্যা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা একসঙ্গে কাজ করে সচেতনতা বাড়াতে এবং সবার কাছে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চোখের চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পারলে আরও অনেক মানুষ সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

আলোচনা পর্বের শুরুতে আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথ ইন বাংলাদেশের চেয়ার ও সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও দেশে দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ২০২০ সালের নেশনওয়াইড ব্লাইন্ডনেস সার্ভে অনুযায়ী, ৩০ বছর ও তার বেশি বয়সী ১৯ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এর প্রভাব শুধু চোখে দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি পড়াশোনা ও সামাজিক বিকাশে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীলতা, কাজের সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সুযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

অমৃতা রেজিনা রোজারিও বলেন, বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত চোখের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকার ও এনজিওগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

চশমা ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার মতো সেবাগুলো মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে উল্লেখ করেন ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিশা মাহজাবিন।

তিনি বলেন, চশমা হয়তো খুব সাধারণ একটি সমাধান, কিন্তু এর প্রভাব মানুষের জীবনে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি পড়াশোনা, জীবিকা অর্জন, নিরাপদে চলাফেরা এবং নিজের কাজ নিজে করার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব দৃষ্টি দিবস চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সবাইকে একত্রিত করে এবং প্রয়োজনীয় চশমা ও সেবাগুলো যেন সবাই পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে আরও দ্রুত কাজ করার সুযোগ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মহসীন। তিনি দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগের সঙ্গে চোখের স্বাস্থ্যসেবাকে যুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অফথালমোলজি অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির। তিনি বাংলাদেশে চোখের স্বাস্থ্যসেবা আরও এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইএপিবির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কান্ট্রি চেয়ার ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, ওএসবির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মো. জিন্নু রেইন (নিউটন) এবং ওএসবির প্রেসিডেন্ট ডা. মো. তৌহিদুর রহমান।

আলোচনা পর্বটি পরিচালনা করেন হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম হেড ডা. আফসানা হাবিব শিউলি।

প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে চোখের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য ও মানসম্মত চোখের চিকিৎসাসেবার গুরুত্ব তুলে ধরাই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস (আইএপিবি)-এর নেতৃত্বে প্রতি বছরের মতো এবারও ৮ অক্টোবর বিশ্ব দৃষ্টি দিবস-২০২৬ পালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ধন্যবাদ বক্তব্য দেন আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথের কো-চেয়ার এবং দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ কে এম বদরুল হক।

তিনি বাংলাদেশে সবার জন্য চোখের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ও বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন

ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকদের সব ব্যাংকিং সেবা মিলবে ১৫ অক্টোবর থেকে

শিক্ষকদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক, হবেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

বুটেক্স-আইটিইটি এক্সপো উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা পানিসম্পদ মন্ত্রীর

বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল টয়োটা

অটোমোবাইল শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল টয়োটা বাংলাদেশ

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়: ডিসি ফরিদা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ পেল পূবালী ব্যাংকের বাস

শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

ডিআরইউ বর্ষসেরা রিপোর্টের পুরস্কার দেবে নগদ