বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সৃজনশীলতার বিকাশ ও নতুন প্রতিভার স্বীকৃতি দিতে আয়োজিত প্রাণ-আরএফএল প্রেজেন্টস প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত বিচারকার্যে অংশ নিয়েছেন চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডিং, ফ্যাশন, সংগীত, মার্কেটিং ও সৃজনশীল যোগাযোগশিল্পের বিশিষ্ট পেশাজীবীরা। চূড়ান্ত বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয় দ্য ডেইলি স্টার কনফারেন্স হলে।
স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ‘Human Creativity. AI Possibilities.’। মানুষের কল্পনা ও সৃজনশীল চিন্তার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে নতুন ধরনের সৃজনশীল কাজকে উৎসাহিত করা এবং বাংলাদেশের এআই ক্রিয়েটিভ কমিউনিটিকে এগিয়ে নেওয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
চূড়ান্ত বিচারকমণ্ডলীতে দেশের বিশিষ্ট পেশাজীবীরা
প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত বিচারকমণ্ডলীতে রয়েছেন বিভিন্ন শিল্পের অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বরা। তাঁরা হলেন—
বিভিন্ন শিল্পে তাঁদের অভিজ্ঞতা এআই-নির্ভর সৃজনশীল কাজের মৌলিকত্ব, প্রযুক্তির ব্যবহার, গল্প বলার দক্ষতা, নান্দনিকতা ও সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়নে বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করেছে।
প্রযুক্তির পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে সৃজনশীলতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃজনশীল কাজের প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে। এ বাস্তবতায় প্রিজমের লক্ষ্য শুধু এআই প্রযুক্তির ব্যবহারকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়; বরং প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষের নিজস্ব ভাবনা, মৌলিক ধারণা, গল্প বলার দক্ষতা ও সৃজনশীল সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া।
চূড়ান্ত পর্যায়ে জমা পড়া কাজের বৈচিত্র্য বাংলাদেশের এআই-নির্ভর সৃজনশীলতার প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। সেরা কাজ নির্বাচনে বিচারকদের বিবেচনায় রয়েছে মৌলিকত্ব, সৃজনশীল বাস্তবায়ন, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার ও সামগ্রিক প্রভাব।
এবারের প্রতিযোগিতায় চারটি বিভাগে কাজ মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিভাগগুলো হলো—এআই বিজ্ঞাপন, এআই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, এআই মিউজিক ভিডিও ও এআই ফ্যাশন। বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র, সংগীত ও ফ্যাশনশিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বহুমুখী ব্যবহার এবং নতুন সৃজনশীল সম্ভাবনা তুলে ধরাই এসব বিভাগের উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশের এআই ক্রিয়েটিভ ইকোসিস্টেম গড়ার উদ্যোগ
স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের এ উদ্যোগের লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের ক্রিয়েটরদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, উদ্ভাবন ও নিজস্ব সৃজনশীল ভাষা বিকাশে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি ক্রিয়েটরদের সঙ্গে শিল্পের অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সংযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশের এআই-নির্ভর সৃজনশীল কাজকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করা।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের সৃজনশীলতার সম্পর্ক কীভাবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তা তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার উপযোগী সৃজনশীল কাজ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে চায় এ আয়োজন। প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান নিয়ে পরবর্তী ঘোষণা আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, ‘Human Creativity. AI Possibilities.’ প্রতিপাদ্যে প্রাণ-আরএফএল প্রেজেন্টস প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ আয়োজন করেছে স্পাইকস্টোরি লিমিটেড। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি, নতুন প্রতিভার বিকাশ ও বাংলাদেশের এআই ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নেওয়া এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।