ট্রাইব্যুনালে তার মায়ের জবানবন্দি
জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চার আসামির বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন স্কুল শিক্ষার্থী শহীদ আশিকুল ইসলামের মা আরিশা আফরোজ।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে জবানবন্দি দেন তিনি। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জবানবন্দিতে আরিশা আফরোজ বলেন, আমি শহীদ আশিকুল ইসলামের মা। আমার বয়স ৩১ বছর। বর্তমানে আমি বনশ্রী, রামপুরায় থাকি এবং টেইলার্সের কাজ করি। জুলাই আন্দোলনের সময় আমার ছেলে বনশ্রী নিবরাশ মাদ্রাসায় নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল এবং তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার আমার ছেলে জুম্মার নামাজ শেষে বাসায় এসে আমার সঙ্গে খাবার খেয়েছে। এসময় আন্দোলনকারীদের আওয়াজ শুনে আমার ছেলে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে যায়। আমি দেখি আমার ছেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এভিনিউ রোডে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ করে গোলাগুলি শুরু হলে, আমার ছেলেসহ আন্দোলনকারীরা দৌড়ে ২ নাম্বার রোডের দিকে চলে যায়। আমি কয়েকজনের গায়ে গুলি লাগতে দেখি। কারো হাতে, কারো পায়ে, কারো মাথায় গুলি লেগেছে। তাদের ক্ষতস্থানে কাপড় দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এরপর অনেক গোলাগুলি হয় এবং অনেক মানুষকে পাখির মতো মারা হয়। অনেক লাশ পড়ে থাকতে দেখি।
জবানবন্দিতে তিনি আরো বলেন, আমি ছেলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। রাত পর্যন্ত ছেলে আসে নাই। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আমি ৪ নাম্বার হাউজের গ্যারেজে হাটাহাটি করছিলাম ছেলের জন্য। এমন সময় একটি ছেলে আমাকে জিজ্ঞাস করে, ‘আন্টি কি হয়েছে?’ আমি বলি, আমার ছেলে এখনো বাসায় ফিরেনি, ওর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। তখন ওই ছেলেটি তার মোবাইলে একটি ছবি দেখিয়ে বলে, ‘দেখেন এইটা আপনার ছেলে কি না।’ তখন মোবাইলে ছবিটি দেখেই চিনতে পারি, সে আমার ছেলে। ছবিতে তার মাথায় ব্যান্ডেজ ছিলো, চোখ বন্ধ ছিলো। ছবি দেখেই আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। আনুমানিক রাত ১২টার দিকে আমার ছেলেকে দেখতে এ্যাডভান্স হাসপাতালে যাই। কর্তব্যরত ডাক্তাররা জানায়, আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। আমি দেখি, আমার ছেলের ডান কানের দিক দিয়ে গুলি ঢুকে বাম কানের দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে।
পরবর্তীতে জানতে পারি যে, কর্নেল রেদোয়ান, মেজর রাফাত, এডিসি রাশেদ এবং ওসি মশিউর শেখ হাসিনার নির্দেশে গুলি চালিয়েছে। এর সঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের জড়িত ছিলো। আমি এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও আন্দোলনকারীদের মাধ্যমে জেনেছি। আমি নিজেও দেখেছি। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।
এএস