হোম > আইন-আদালত

একটি গুলি আমার বুকের হাঁড় ভেঙে বেরিয়ে যায়

জবানবন্দিতে জুহামুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ কলেজ শিক্ষার্থী জুহামুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দিতে জুহামুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুম্মার নামাজের পর মিরপুর ১০ নং গোল চত্বরে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা জমায়েত হয়। ওই দিন ছিলো মিরপুরবাসীর জন্য এক দুর্বিষহ দিন। বিজিবি ও পুলিশ আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করে এবং র‍্যাব হেলিকপ্টার থেকে থেকে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগও ছিলো। আমি চোখের সামনে অনেককে আহত ও ২/১ জনকে নিহত হতে দেখি। আমি ভাগ্যক্রমে গুলির হাত থেকে রক্ষা পাই।

জবানবন্দিতে জুহামুল বলেন, এরপর দিন ২০ জুলাই কারফিউ ছিল। দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হলে মিরপুর ১০নং গোল চত্বরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ অবস্থান নেয়। এ সময় আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা মিরপুরের অলিগলিতে অবস্থান করে। আমিও ছাত্রজনতার সাথে গলিতে অবস্থান করি। দুপুর দেড়টার দিকে প্রচণ্ড শব্দ হয়। তখন একটি গুলি আমার বুকের বাম দিকে ঢুকে হাড় ভেঙে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। সাক্ষী তার শরীরের ক্ষতচিহ্ন ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করেন।

তিনি আরো বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে আমি কিছুটা দৌড়াতে গিয়ে পড়ে যাই। আমার শরীর থেকে রক্ত বের হতে দেখে দুজন রিকশাওয়ালা আমাকে কাজীপাড়ায় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তাররা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রক্ত বন্ধ করতে না পেরে আমাকে ঢাকা মেডিকেল বা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যেতে বলেন। পরে একজন বিআরটিসি বাসের ড্রাইভার ও আরেকজন স্কুল ছাত্র আমাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যাওয়ার পর আমি এক বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখি। সেখানে অনেক আহত ও নিহত ব্যক্তিদের দেখতে পাই। এরপর আমাকে এক্স-রে রুমে নিয়ে ২০ মিনিটের মতো চিকিৎসাবিহীন রেখে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আমাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলে আমার অবস্থা গুরুতর দেখে ডাক্তাররা আমাকে মহাখালী বক্ষব্যাধী হাসপাতালে যেতে বলেন। পরবর্তীতে আমাকে মহাখালী বক্ষব্যাধী হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিন সন্ধ্যায় আমার অপারেশন হয়। এরপরের দিন সকালে ছাত্রলীগ অস্ত্র ও বাঁশের লাঠিসহ হাসপাতালে এসে আমাদের গালাগালি করতে থাকে। তারা আমাদের ছবি তুলে এবং আমাদের নামে মামলা দেয়।

জবানবন্দিতে তিনি আরো বলেন, এই ঘটনার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ অন্যান্যদের দায়ী করছি। আমি তাদের বিচার চাই।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার চেষ্টা

পথচারীকে মারধরের অভিযোগে রাশিয়ান মডেল মনিকার বিরুদ্ধে মামলা

নজরুল-হেমায়েতসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

জামিন মেলেনি ঢাবি শিক্ষক জামাল উদ্দীনের

বিধবাকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের আমৃত্য কারাদণ্ড

কোটি টাকা ঘুস চাওয়া সেই সাইমুম জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের নেতা

সাংবাদিকদের প্রকৃত স্বাধীনতা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জিএম কাদের ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক

অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

দুদকের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, কারামুক্তিতে বাধা নেই