হোম > আইন-আদালত

কারফিউ জারি করে হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর ছিলেন সালমান-আনিসুল

জুলাইযোদ্ধা ঢাবি শিক্ষার্থী সায়েমের জবানবন্দি

স্টাফ রিপোর্টার

জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর মিরপুর অঞ্চলে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এসএম সায়েম। আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে নেন তিনি। তাদের মধ্যে কয়েকজন শহীদ হন। একজনের পেটে গুলি লেগে ভুঁড়ি বেরিয়ে যায়, আরেকজনের মগজ বের হয়ে ঝুলে থাকে এবং আরেকজনের চোখে গুলি লাগলে অন্ধ হয়ে যান। মূলত সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের প্ররোচনায় শেখ হাসিনার নির্দেশে কারফিউ জারি হলে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সায়েমের জবানবন্দিতে এসব কথা উঠে আসে।

জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ত্রয়োদশ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে সায়েম বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৪ জুন হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত এলে আমরা এর প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করি। ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করি। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় ৬ জুলাই বাংলা ব্লকেড এবং ৯ জুলাই এক দফা কর্মসূচি ঘোষণা করি।

তিনি বলেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকেই গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের হুমকি দেওয়া হতে থাকে। ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি ও রাজাকারের বাচ্চা’ বলে বিদ্রূপাত্মক বক্তব্যের পর সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ‘তুমি কে, আমি কে, রাজাকার-রাজাকার’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ১৫ জুলাইও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। পরদিন ১৬ জুলাই আমি মিরপুরের সনি সিনেমা হলের সামনে বিকেল ৪টা থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিই। এ সময় পুলিশ আমাকে আটক করে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরে আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে পুলিশ আমাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

জবানবন্দিতে এই জুলাইযোদ্ধা বলেন, ওই দিন রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ সারা দেশে ছয়জন আন্দোলনকারী শহীদ হন। এসব হত্যাকাণ্ড আমাদের আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। পরবর্তী সময়ে সরকার কারফিউ জারি, গণগ্রেপ্তার, ইন্টারনেট বন্ধ এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের আটক করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে। ২৬ জুলাই ডিবি পুলিশ আন্দোলনের কয়েকজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ককে আটক করে। তাদের জোরপূর্বক আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাই।

তিনি আরও বলেন, ৩০ জুলাই মার্চ ফর জাস্টিস এবং ৩১ জুলাই রিমেম্বার আওয়ার হিরোজ কর্মসূচি পালন করি। ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের সমাবেশে নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা ঘোষণা করেন। ৪ আগস্ট সারা দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। ওই দিন সারা দেশে ৩০০ থেকে ৪০০ জন আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়। ৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেন। যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, গাবতলীসহ বিভিন্ন প্রবেশমুখ দিয়ে জনস্রোত ঢাকায় আসতে থাকে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলিবর্ষণ করা হয়। কিন্তু জনস্রোত থামানো যায়নি। একপর্যায়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান এবং সরকারের পতন ঘটে।

সায়েম বলেন, আন্দোলন চলাকালে আমি বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি। তাদের মধ্যে কয়েকজন পরবর্তী সময়ে শহীদ হয়েছেন। গুলিতে কারও নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়, কারও মগজ বের হয়ে যায় এবং কারও চোখ নষ্ট হয়ে যায়। আমাকে আটক করার উদ্দেশ্যে একাধিকবার আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বাড়ির একটি দেয়াল গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে যায়, আমাকে যেখানেই পাবে, সেখানেই হত্যা করবে। এসব ঘটনা ও স্মৃতি এখনো আমাকে তাড়িত করে।

জুলাইযোদ্ধা সায়েম বলেন, আন্দোলনে যে হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে, তার অন্যতম ফ্যাক্টর ছিল কারফিউ জারি। কারফিউ জারি না করলে এত হত্যাকাণ্ড হয়তো হতো না। এই কারফিউ জারির মূল কারিগর হলেন সালমান এফ রহমান এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আমি হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত সবার বিচার চাই। যারা নিহত ও আহত হয়েছেন এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের জন্য সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ চাই। একই সঙ্গে এই ট্রাইব্যুনালে যারা সাক্ষ্য দিচ্ছি, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

চিকিৎসাবর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপনে রুল শুনানি করবে হাইকোর্ট

হাদি হত্যা: ২১ বার পেছাল অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

তাহসিফ হত্যা মামলা: বন্ধু দীপের দ্বিতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ড

হাসিনা-কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের চিঠিতে যা আছে

হাসিনা-কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেবে প্রসিকিউশন

রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে গ্রেপ্তার ২৬ জন কারাগারে

ঋণের নামে ১২২১ কোটি টাকা লোপাট, সালমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ

সাবেক এমপি মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

বিকাশ-নগদ-রকেটের অতিরিক্ত চার্জ: রুলের শুনানি কাল