বিগত ৫৬ বছরে দুই-তিনজন মানুষের ব্যক্তিগত অহংবোধ বা ইগোর কাছে বাংলাদেশ বারবার হোঁচট খেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী শিশির মনির। একটি মীমাংসিত রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোকে পুনরায় অমীমাংসিত করার প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, নতুন করে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নিয়ে সময়ক্ষেপণ করা মূলত ‘ইগোইস্টিক’ কর্মকাণ্ড ছাড়া আর কিছুই নয়।
সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শিশির মনির জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জুলাই সনদ নির্বাচনের আগেই চূড়ান্ত হয়েছে এবং এর সবকিছুই লিখিত ও সর্বসম্মত। কোনো ভিন্নমত থাকলে কিংবা না থাকলেও তা দলিলেই স্পষ্ট রয়েছে। এই অবস্থায় নতুন করে আবার মতবিনিময় চালু করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এই মতবিনিময়ে কী করবেন? এটাকে কি বাতিল করবেন, নাকি এখান থেকে সরে যাবেন? তাহলে এই মতবিনিময়ের উদ্দেশ্য কী?’ তার মতে, ব্যক্তি যখন নিজের অবস্থান বা কর্তৃত্ব থেকে সরতে পারে না, তখনই এ ধরনের চিন্তা তৈরি হয়।
অতীতের রাজনৈতিক অচলাবস্থার উদাহরণ দিয়ে শিশির মনির বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে কেবল রাজনৈতিক ইগোর কারণে দেশের ১৫টি বছর নষ্ট হয়েছে। নির্বাচনের মেয়াদ শেষে একটি নিরপেক্ষ সরকার দায়িত্ব পালন করবে—এই সাধারণ বিষয়টি মেনে না নেওয়ার দ্বন্দ্বে পুরো একটি প্রজন্ম ১৫ বছর লড়াই করতে বাধ্য হয়েছে।
একটি মীমাংসিত ব্যবস্থাকে ফের সংকটে ফেলার চেষ্টা চলছে দাবি করে তিনি সতর্ক করেন, পুরনো সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে দেশ ও জাতিকে নতুন কোনো অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।