কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। অবরুদ্ধ করা এসব ব্যাংকের ১৭১টি হিসাবে ও এফডিআরে মোট ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা রয়েছে।
সোমবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
যাদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে তারা হলেন—কাজী জাফরউল্লাহ, তার স্ত্রী নীলুফার জাফরউল্লাহ, বড় ছেলে কাজী ওমর জাফর, মেজো ছেলে কাজী রায়হান জাফর এবং মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফর।
এর আগে দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান এসব আবেদন করেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের নামে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি, মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি ও প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির গুলশান ও বনানী শাখায় বিপুল পরিমাণ এফডিআর, সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব ও লকার রয়েছে।
নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, কাজী জাফরউল্লাহর নামে ৪৪টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবের মেঘনা ব্যাংকে ২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৩ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৭ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ টাকা রয়েছে।
তার স্ত্রী নীলুফার জাফরউল্লাহর নামে ২৪টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবের, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৮ কোটি ১৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৮ টাকা রয়েছে। মিডল্যান্ড ব্যাংকের হিসাবে ডাবল লকার সুবিধাও রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বড় ছেলে কাজী ওমর জাফরের নামে ৩৩টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবের, মেঘনা ব্যাংকে ৭১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫ হাজার ১১১ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪৪ টাকা রয়েছে। মিডল্যান্ড ব্যাংকের হিসাবে লকার সুবিধা রয়েছে। আর মেজো ছেলে কাজী রায়হান জাফরের নামে ২৮টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবের, মেঘনা ব্যাংকে ১২ কোটি ৪২ লাখ ১৯ হাজার ৪৩৪ টাকা ও ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার ৪১৫ টাকা রয়েছে। মিডল্যান্ড ব্যাংকের হিসাবেও লকার সুবিধা রয়েছে বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফরের নামে ৪২টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবের, মেঘনা ব্যাংকে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৩০ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৭৩ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ২০ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৩০২ টাকা রয়েছে।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, অনুসন্ধানে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব অস্থাবর সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা রূপান্তরের চেষ্টা করার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পত্তি মামলা বা অভিযোগ নিষ্পত্তির আগে হাতবদল হয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে এসব সম্পত্তি অবিলম্বে অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন। শুনানি শেষে অবরুদ্ধ করার ওই আদেশ দেন বিচারক।