জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শারমীন জাহান হত্যা মামলায় তার স্বামী ঢাকা কলেজের ছাত্র ফাহিম আল হাসানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে কারাগার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ১৬ মার্চ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই শহিদুজ্জামান তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে বিশ্বজিৎ দেবনাথ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
ফাহিমের পক্ষে তার আইনজীবী সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে শুনানিকালে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এজন্য আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে ২৪ মার্চ রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ১৫ মার্চ দুপুরে ক্যাম্পাস সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শারমীন জাহানের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গত ১৫ মার্চ শারমীন জাহানের চাচা মনিরুল ইসলাম আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর ওই রাত আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার ইসলামনগর এলাকা থেকে ফাহিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ২৪ জুন তারা পরিবারের অগোচরে বিয়ে করার পর থেকে আশুলিয়ার ইসলামনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল।
ঘটনার দিন ১৫ মার্চ সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে কোনো এক সময়ে ফাহিম অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শারমিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কপালে ও মাথায় কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।