হোম > আইন-আদালত

হত্যার পরও ১৫ দিন সক্রিয় ছিল সাগর-রুনির ফেসবুক-ইমেইল, তথ্য চেয়ে জিমেইলকে চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের পরেও পনের দিন তাদের ফেসবুক ও জিমেইল সক্রিয় ছিল। এছাড়া দেড় মাস পর আর একবার জিমেইল লগইন করা হয়। কারা লগইন করেছে, এই তথ্য চেয়ে জিমেইল কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

বুধবার আমার দেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

তিনি জানান, ডার্ক ওয়েবের ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সাগর-রুনির হত্যার পর পনের দিন পর্যন্ত তাদের ফেসবুক ও ইমেইল সক্রিয় ছিল। এরপর দেড় মাস পরে আবার একবার লগইন করতে দেখা গেছে। কারা এটি লগইন করেছে—তা জানতে জিমেইল কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তানভীর হাসান জোহা আরও জানান, চিঠি পাঠানোর পর জিমেইল কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা কোর্ট ছাড়া তথ্য দিতে পারবে না। এটি তাদের নিয়মে নেই। তবে কোর্ট অর্ডারের জন্য মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন চিফ প্রসিকিউটর।

প্রসিকিউটর জোহা জানান, জিমেইলের কাছ থেকে তথ্য পেলে কারা এটি লগইন করেছে, জানা যাবে। তবে তিনি প্রাথমিকভাবে কারা এটি লগইন করেছে, তা শনাক্ত করেছেন। কিন্তু জিমেইলের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেলে তখন সেটি অ্যাথেন্টিক হবে।

প্রসিকিউটর তানভীর জোহা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডকে নিছক চুরি বলে যে বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল—তার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কোনো ডিভাইস চুরি হলে সাধারণত তা বিক্রি করে দেওয়া হয় বা ফ্ল্যাশ করা হয়। কিন্তু পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত ডিভাইসের নিরাপত্তা ভেঙে হত্যাকাণ্ডের পর কারও আইডিতে লগইন করে বসে থাকা কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা হতে পারে না।

এর আগে, গত ৩০ আগস্ট সাগর-রুনি হত্যায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আনে প্রসিকিউশন। তারা কোন কোন প্রক্রিয়ায় এই হত্যায় জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাগর-রুনি দম্পতি। পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। চার দিন পর তদন্তভার দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও ডিবি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে না পারায় হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দীর্ঘ সময় র‌্যাবের তদন্তেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলাটির তদন্ত থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

হাইকোর্টের নির্দেশের পর ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। পিবিআই প্রধানকে ওই টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয়। বর্তমানে এই টাস্কফোর্সের অধীনেই মামলার তদন্ত চলছে।

তবে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হওয়ায় টাস্কফোর্সকে বেশ কয়েক দফায় সময় দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট আরও ছয় মাস সময় দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটির তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১৩০ বার পিছিয়েছে।

হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার চার্জ গঠন শুনানি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর

এমপি নজরুল ও তার স্ত্রীর প্ররোচনায় আত্মহত্যা করেননি মরিয়ম, যা আছে আপসনামায়

হাসপাতালে গিয়ে দেখি সৈকতের গুলিবিদ্ধ রক্তমাখা লাশ পড়ে আছে

দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে আপস, প্রথম স্ত্রী জামিন পেলেও জামিন মেলেনি নজরুলের

দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বজনদের সঙ্গে এমপি গাজী নজরুলের আপস-মীমাংসা

সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছাল ১৩০ বার

এসপি এহসান উল্লাহর নির্দেশে দুই বিএনপি নেতাকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হয়

হাসিনার জন্মদিনের কেক কাটতে গিয়ে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মী রিমান্ডে

সাবেক আইনমন্ত্রীর ভাই ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিল হাইকোর্ট