হোম > আইন-আদালত

চানখাঁরপুল মামলার রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে শহীদ পরিবারের স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে অসন্তষ জানিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টার বরারব স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এতে শহীদ পরিবারসমূহের প্রতি ন্যায় বিচার নিশ্চিতকরণসহ জুলাই আন্দোলনের চেতনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে উক্ত রায় পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইবুন্যালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

মঙ্গলবার শহিদ পরিবারের পক্ষে স্মারকলিপি দেন শহিদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর মাহমুদুর রহমান, শহিদ রমিজ উদ্দেনর বাবা রকিবুল আহমেদসহ অনেকে।

স্মারকলিপি বলে হয়েছে, ২৪ জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত নারকীয় সহিংসতায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁরা জাতির ইতিহাসে শহীদ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগে দেশের গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করেছে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, গতকালকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল কর্তৃক জুলাই-আগস্টে চাঁনখারপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারসংক্রান্তে যে রায় প্রদান করা হয়েছে, তা শহীদ পরিবারসমূহ গভীর উদ্বেগ ও হতাশার সঙ্গে গ্রহণ করেছে।

অসম্ভষের কারণসমূহ

১. উক্ত রায়টি আইনগতভাবে সঙ্গত নয়, কারণ সুস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তা রায়ে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় নি। যা ন্যায় বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

২. প্রিন্সিপাল অফেন্ডারদের অপর্যাপ্ত শাস্তি প্রদান করে এবং সুপিরিয়র কর্মকর্তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড আরোপ করায় ভবিষ্যতে এই রায় টিকবে কি না সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

৩. উক্ত রায়টি সম্পূর্ণরূপে জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী, এর ফলে ১৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্যরা চরমভাবে মর্মাহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন।

৪. এই রায় ভবিষতে একটি নেতিবাচক নজির হিসেবে প্রতিষ্টিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় আনাকাক্ষিত প্রভাব ফেলতে পারে।

এমতাবস্থায়, শহীদ পরিবারসমূহ ন্যায় বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে উক্ত রায় পুনর্বিবেচনার জন্য মাননীয় ট্রাইবুন্যালের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি জুলাই বিপ্লবে চানখাঁরপুল এলাকায় ৬ জনকে হত্যার মামলায় ডিএমপি’র সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, মামলার সকল ডকুমেন্ট, অডিও-ভিডিও বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে মনে করে যে, অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান (ডিএমপি কমিশনার), অভিযুক্ত সুদীপ কুমার চক্রবর্তী (যুগ্ম কমিশনার), অভিযুক্ত শাহ আলম মোহাম্মদ আক্তারুল ইসলাম (অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার) মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী। প্রত্যেককে একত্রে সকল অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলো। একইসঙ্গে এই ৩ আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নিদের্শ দেয়া হলো।

এদিকে অন্যান্য অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে- পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মো. ইমরুল (পলাতক) ৬ বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) আরশাদ হোসেন (হেফাজতে) ৪ বছরের কারাদণ্ড, কনস্টেবল সুজন হোসেন, ইমাম হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম (হেফাজতে) প্রত্যেকে ৩ বছরের কারাদণ্ড। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। আইন অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্তরা গতকাল থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবেন। এই রায় বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট জেল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে সাধারণ ছুটি

আবু সাঈদ হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন

চট্টগ্রাম-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির সারোয়ার

সামিটের চেয়ারম্যান আজিজসহ পরিবারের ১৬ সদস্যকে দুদকে তলব

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে হাইকোর্টে হাজিরার নির্দেশ

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত আবেদ আলীর ছেলে সোহানুর রিমান্ডে

স্ত্রী-সন্তান হারানো ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের হাইকোর্টে জামিন

আবেদ আলীর স্ত্রীর জমি-ফ্ল্যাট জব্দ, গাড়ি-ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার: চার দিনের রিমান্ডে সালমান এফ রহমান

ভারতে অবস্থানরত হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা