জুলাই আন্দোলনে এক হত্যাচেষ্টার মামলায় দেড় মাসের সন্তানকে নিয়ে কারাগারে যাওয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টার পর জামিনের আদেশ এলো সেই মা যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত তার এই জামিনের আদেশ দেন।
শিল্পী বেগমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জামিনের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন,''আশা করছি, আগামিকাল তারা কারামুক্ত হবেন।"
শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সোমবার সন্ধ্যায় তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই শেখ নজরুল ইসলাম।
এর আগে গতকাল দুপুর ২টার দিকে আসামিকে এজলাসে তোলা হয়। শিল্পীর স্বামী, বোন, ননদ, খালাসহ আত্নিয়-স্বজনরা আদালতে হাজির হন। সেখানে শুনানিতে শিল্পী বেগমের আইনজীবী বলেন, "তার ১ মাস ১৬ দিনের কন্যা সন্তান রয়েছে। তাকে সিজার করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করছি।” শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর ওই আদেশ দেয় আদালত। পরে তাকে খুব হাজতখানায় নিয়ে যান পুলিশের সদস্যরা।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমণ করেন।
পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অজ্ঞাত আরো ১২০/১৩০ জন আহত ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালায়। বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাংচুর করায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তিন লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান আসামিরা। শিল্পী ও অন্য আসামিরা ওই শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করা হয়।