নিজে কখনো জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি না করলেও কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে তাকে ‘জামায়াত’ হিসেবে চিহ্নিত ও ব্র্যান্ডিং করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি মন্তব্য করেছেন, মুখে প্রগতিশীলতার কথা বললেও অনেকের অন্তরে ফ্যাসিজম প্রোথিত রয়েছে, যার কারণে ভিন্নমতের মানুষের সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাবার খাওয়ার মতো মানসিকতাও থাকে না।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এ কথা বলেন।
আইনজীবীদের এক মতবিনিময়ে নিজের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে তিনি বলেন, ‘যদিও আমি কখনো জামায়াত করি নাই, কিন্তু আমাকে ব্র্যান্ড করা হয় যে আমি জামায়াত, কারণ আমি জামায়াতের আইনজীবী ছিলাম।’
ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘একদিন দেখলাম একটা টেবিলে চার-পাঁচজন আইনজীবী বসেছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির আইনজীবী আছেন, জামায়াতের আছেন, আবার আওয়ামী লীগেরও আছেন। আমি তাদের সাথে গিয়ে কুশল বিনিময় করে খাওয়ার জন্য বসলাম। একটু পর আওয়ামী লীগের আরো দুজন আইনজীবী সেখানে আসেন। তখন আমার টেবিলে থাকা ব্যক্তিরা তাদের ডাক দিয়ে বললেন, ‘ভাই আসেন, আমাদের সাথে বসেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু তখন ওই ব্যক্তি ইশারায় আমার দিকে তাকিয়ে অপর আওয়ামী লীগ আইনজীবীকে বললেন, ‘ওই যে উনি আছেন... উনি থাকলে তো এখানে বসা যাবে না, জামায়াত!’ অথচ আমি কখনো জামায়াত করিনি, পেশাগতভাবে জামায়াতের আইনজীবীদের দলে ছিলাম বলেই আমাকে এভাবে ট্যাগ দেওয়া হয়।’
রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও সংকীর্ণ মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তার মানে হলো, মুখে প্রগতিশীলতার কথা বলা হলেও অন্তরে মূলত ফ্যাসিজম প্রোথিত। যার কারণে আরেক দলের বা ভিন্নমতের একজন লোক থাকলে তার সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়াও যাবে না—এমন মনোভাব পোষণ করা হয়।’
রাজনীতি ও সমাজে গুণগত পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই যে ট্যাবু ও পারস্পরিক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দেয়াল, এই জায়গাগুলো থেকে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে যেমন বেরিয়ে আসতে হবে, তেমনি সুশীল সমাজকেও এই সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’