আমেরিকার বিভিন্ন নামী কোম্পানিতে চাকরির ভুয়া অফার লেটার পাঠিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. তানভির হাসান (২৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গতকার বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার আজমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানভির হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তানভির হাসান আজমপুর এলাকার বাসিন্দা মাসুদ পারভেজের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট সকালে তিনি ফেসবুকে একটি পেজের সন্ধান পান। ওই পেজে আমেরিকায় বিভিন্ন ভিসা ক্যাটাগরিতে কাজের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া ছিল। আগ্রহী হয়ে তিনি পেজে দেওয়া একটি বিদেশি মোবাইল নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন।
যোগাযোগের একপর্যায়ে চক্রের এক সদস্য তাকে আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির অফার লেটার পাঠান। এরপর চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্তদের দেওয়া বাংলাদেশের কয়েকটি ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভুক্তভোগী মোট ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১০ টাকা পাঠান।
পরে অফার লেটারসহ চাকরির বিষয়টি ভুয়া বলে বুঝতে পারেন ভুক্তভোগী। তিনি অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে মোবাইল নম্বর থেকে ব্লক করে দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্তরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এ ছাড়া আরো অর্থ দাবি করলে ভুক্তভোগী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে প্রতারকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। ২০২৬ সালের ১০ জুন করা ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪, ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি প্রথমে তেজগাঁও থানায় করা হলেও বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির কাছে দেওয়া হয়।
সিআইডি জানায়, তদন্তে মামলার তথ্য ও সংশ্লিষ্ট লেনদেন বিশ্লেষণ করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের সদস্যদের একজন তানভির হাসানের প্রকৃত ঠিকানা শনাক্ত করা হয়। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখানের আজমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানভির হাসান ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত কার্যক্রম চলছে।
এএম