জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর আদাবরে পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের আদেশ দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর রুবেল হত্যা মামলা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবির তেজগাঁও বিভাগের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ টিপু সুলতান। প্রথমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত তার গ্রেপ্তার দেখানো বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে রিমান্ড বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানিতে মাঞ্জিল হায়দারের পক্ষে তার আইনজীবী কামাল হোসেন রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেন। উভয়পকের শুনানি শেষে রিমান্ডে নেয়ার ওই আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা সকাল ১১টার দিকে আদাবরের রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়। নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গত বছরের আগস্টে আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, এর আগে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহতের ঘটনায় নিউ মার্কেট থানার মামলায় তিন দফায় ১২ দিনের রিমান্ড নেওয়া হয়েছিল তাকে। ২২ এপ্রিল রমনা মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে পাঁচ দিন। এরপর ২৬ এপ্রিল চার দিন এবং ৩০ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। গত ৯ এপ্রিল মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দারকে গ্রেপ্তার করা হয়।