আজকে একটি বড় দল ও তাদের মহান নেতা দেশে এসে ভারতের প্রেসক্রিপশনে রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। ওই রাজনৈতিক দলের মহান নেতা একবার শুধু হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলেছে। একবার বলার পর হ্যাঁ এর পক্ষে বলা হারিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় শাহবাগের শহীদ হাদী চত্বরে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদের আয়োজনে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, সারা দেশে শহীদদের স্বপ্ন পূরণে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করছি, তখন কালচারাল ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদী শক্তি না ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নব্য ফ্যাসিস্ট, কালচারাল ফ্যাসিস্ট, আধিপত্যবাদীরা আবারও সক্রিয় শুরু হয়ে গেছে। ভারতীয় দালাল জিএম কাদের ও জাতীয় পার্টি না ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ভারতীয় এজেন্ট এই জিএম কাদের ও জাতীয় পার্টিকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। নেতা একবার হ্যাঁ এর পক্ষে বললেও নেতাকর্মীরা গ্রামে গঞ্জে না ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করছে। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে শহীদ শরীফ উসমান হাদী, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, শান্তদের ধারণ করতে হবে। আমরা ইন্টেরিম সরকারকে আহ্বান করব হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কেউ প্রচার করতে চাইলে আপনারা বাধা দেবেন না। শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা ক্ষমতায় বসেছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, নারীদের ওপর হামলা করবেন না। আবারও নারীদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করলে আমরা জীবন দিয়ে হলেও প্রতিরোধ গড়ে তুলব। ২০০৮ সালের মতো আবারও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার অবস্থা তৈরি করে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে কেউ কেউ। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে পিছন দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার দুঃসাহস দেখাবেন না। সুষ্ঠু নির্বাচনে যারাই ক্ষমতায় আসুক ছাত্র-জনতা তাদের পাশে থাকবে।
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোটের ক্যাম্পেইন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ। আমরা যখন চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, দখলবাজের বিপক্ষে কথা বলছি তখন একটা গোষ্ঠী নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করছে। আমরা আপনাদের আহ্বান করব আপনারাও এই চাঁদাবাজ দুর্নীতিবাজদের বিপক্ষে অবস্থান নিন। আপনারা আমাদের প্রতিপক্ষ ভাববেন না। আমরা বাংলাদেশকে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিই। আপনাদের সবাইকে গ্রামের প্রতিটা বাড়ি বাড়ি হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট চাইবেন।
জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, আমরা গত ১৭ বছর বিভিন্নভাবে নির্যাতিত নিষ্পেষিত হয়েছি। আমরা আগামীতে নতুন ফ্যাসিবাদের শাসন দেখতে চাই না। পাথর দিয়ে মানুষ মারা, চাঁদাবাজি ছিনতাই মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমরা নতুন জাতির আব্বা দেখতে চাই না। আগামীতে জাতির আব্বার জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে শত শত কোটি টাকা লুটপাট হতে দিতে চাই না। সুতরাং জাতির নতুন আব্বা দেখতে না চাইলে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে।
জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমাদেরকে নাকি একটা দলের প্রধানের বিপক্ষে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ এই শাহবাগের শহীদ হাদী চত্বরে দাঁড়িয়ে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি আমরা গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছি। আমরা চাঁদাবাজ, দখলবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমরা আগামীতে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসক দেখতে চাই না। সুতরাং আপনাদের সবাইকে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা একা একা ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠে নাই। রাষ্ট্রের প্রতিটা প্রতিষ্ঠান হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট হতে সহযোগিতা করেছে। জুলাই বিপ্লবের পর আমরা আর কোনো ফ্যাসিস্ট হতে দেখতে চাই না। আমরা দেখছি বিএনপি শুরু থেকেই সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। বাংলাদেশ আগামীতে আর কোন একক ব্যক্তির শাসনে নিষ্পেষিত হতে দেখতে চাই না। আপনাদের সবাইকে প্রতিটা ঘরে ঘরে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করবেন।
জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তারসহ ডাকসু, জাকসু, জকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।