মাদ্রাসা জেনারেল শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পুর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান ও মাদরাসাসহ সব শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমজিটিএ)’।
শুক্রবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনের মহাসচিব ফিরোজ আলমের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ।
এসময়ে তিনি বলেন, গত২০২৫–২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা, যা মোট জাতীয় বাজেটের ১২ দশমিক এক শতাংশ।
এছাড়া ২০২৪–২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দ ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকার তুলনায় মাত্র ৯৩৪ কোটি টাকা বেশি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বা জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাং বরাদ্দ দেওয়ার অঙ্গীকার থাকলেও বাংলাদেশের বরাদ্দ উভয় মানদণ্ডে অনেক কম। যার নেতিবাচক প্রভাব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পড়ে।
তা ছাড়া গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতে উন্নয়নের জন্য সরকার ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৪৪ হাজার ১০৯ কোটি টাকার চেয়ে বেশি।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা খাতে ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১১ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকার চেয়ে বেশি।
এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণায়ের বাজেট টাকার অঙ্কেও কমেছে। এ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, ইউনেস্কোর পরামর্শ হলো- একটি দেশের শিক্ষাখাতে জিডিপি'র ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া। অথচ আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখেনি কোন সরকার।
লিখিত বক্তব্যে হারুন অর রশিদ, আসন্ন ঈদুল আজহায় পুর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান, ৯ম পে-স্কেল প্রদান, সরকারি নিয়মে মেডিকেল ও বাড়ি ভাড়া প্রদান, অনুপাত প্রথা বাতিল করে সকল প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রদান, মাদ্রাসা থেকে স্কুল -কলেজ এবং স্কুল থেকে মাদ্রাসায় বদলী প্রদান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তকরণ, শিক্ষা কমিশন গঠন, মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, মাদ্রাসা প্রশাসনিক পদে জেনারেল শিক্ষকদের নিয়োগ প্রদানের দাবি জানান।
এ সময়ে অরো উপস্থিত ছিলেন, অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সাকুর, কামরুন্নাহার, মোহাম্মদ আলী,আব্দুল হাই, ফজলুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মেহেদী হাসান সরকার অর্থ সম্পাদক আলাউদ্দিন, রেজাউল হক মন্ডল, রফিকুল ইসলাম, আরমান শাহজাদা, রিপন খন্দকার, সালেহ উদ্দিন, আসাদুজ্জামান, দেলোয়ার হোসেন প্রমূখ।
এলআর