হোম > শিক্ষা

ঘনঘন উপাচার্য রদবদলে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অস্থিরতা

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা ও চট্টগ্রাম ব্যুরো

ফাইল ছবি

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় উপাচার্য পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। চার বছরের মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যদের সরিয়ে নতুনদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্তদেরও সরিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়োগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদেশ বাতিল এবং এক-দুই মাসের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অব্যাহতি বা অন্যত্র বদলির ঘটনাও ঘটছে। এতে ক্যাম্পাসগুলোয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া উপাচার্যকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে এ আন্দোলন চলছে। এতে অনলাইনে যোগদান করলেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারছেন না নতুন উপাচার্য।

এদিকে, সাত মাসের মাথায় তিনবার উপাচার্য পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে। সবশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যকে প্রায় ছয় মাসের মাথায় সরিয়ে গতকাল শনিবার নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতিও দিয়েছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। একই দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যকে সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সাত কলেজ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবদুল হাছিব।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে চার বছরের জন্য এই নিয়োগের কথা জানানো হয়। তবে গত ১৬ মার্চ আবদুল হাছিবকে অব্যাহতি দিয়ে জাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলামকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ১ এপ্রিল তিনি যোগ দেন। তবে ছয় মাসের মাথায় গতকাল শনিবার তাকে সেখান থেকে অব্যাহতি দিয়ে জাবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে গতকাল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। লুৎফর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য লুৎফর রহমানকে প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত সদ্যবিদায়ী উপাচার্য নুরুল ইসলামকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তারা।

গতকাল শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য লুৎফর রহমানকে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।

তারা আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃষ্টি। আমাদের শুরু থেকেই দাবি ছিল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-বহির্ভূত হতে হবে। তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ঢাবি অধ্যাপককে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।

জাবিতে উপাচার্য পরিবর্তন

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক কামরুল আহসান। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যকে অব্যাহতি দিলেও ব্যতিক্রমের তালিকায় ছিল জাবি। তবে মেয়াদপূর্তির দুই বছর আগেই গতকাল এই উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য নুরুল ইসলামকে জাবির উপাচার্য করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে, জাবি উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে তার মূল পদ দর্শন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন উপাচার্য নিয়ে আন্দোলন, অচল চুয়েটে

নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে চুয়েট। টানা পঞ্চম দিনের মতো গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।

এদিকে, আন্দোলনের মুখে নিয়োগের পাঁচ দিন পরও সশরীরে ক্যাম্পাসে যোগ দিতে পারেননি নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে গত বৃহস্পতিবার তিনি অনলাইনে যোগ দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা তাকে ‘অনলাইন ভিসি’ আখ্যা দিয়ে তার নিয়োগ প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গতকাল নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। লাল কার্ড হাতে তারা বিক্ষোভ মিছিলও করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের প্রবেশ ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

জানা গেছে, গতকাল দুপুরে ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টারের সামনে লাল কার্ড কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় নানা ধরনের স্লোগান দিতে দিতে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন তারা। পরে শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান করে দিনভর আন্দোলন চালিয়ে যান। বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে।

বর্তমানে চুয়েটের অধিকাংশ হল ও একাডেমিক ভবনগুলোয় তালা ঝুলছে। কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছাড়লেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। আজ রোববার থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা কঠোর আন্দোলনে যেতে পারেন বলে জানা গেছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা সায়েম স্যারকেই ভিসি হিসেবে চাই। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক ভালোবাসেন। তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব একজন ভিসি। তাছাড়া যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি শুরুতেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অসম্মান করেছেন।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, চুয়েটের পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমরা নতুন ভিসি শেখ শরীফুল আলমকে চাই না। আগের ভিসিকে বহাল রাখার দাবিতে আমরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে চুয়েটের একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত স্থানীয় এক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে সাবেক ভিসি সায়েমকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, জুলাই বিপ্লবের আগে এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটত। কিন্তু এতবড় গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষাব্যবস্থায় এই অরাজকতা মেনে নেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে চুয়েটের নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে আলোচনা করে যাচ্ছি। শিক্ষকদের সঙ্গেও আমার কথা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ আমাকে ক্যাম্পাসে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত আছে। তবে আমি চাই পরিস্থিতিকে শান্ত করে দ্রুত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে, যেন কোনো সমস্যা ছাড়াই যোগদান করতে পারি। বেটার চুয়েট গঠনে আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।

উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে মধ্যরাতে চুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ভেরিফিকেশনে প্রার্থীরা বাদ পড়ায় ক্ষোভ, মন্ত্রণালয়ের নরম সুর

তিতুমীর কলেজে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৪

জবি গেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব দারুননাজাতের নতুন কমিটি গঠিত

সারাদিনই অপরিচিত অনেক নম্বর থেকে ফোন আসছে: অপ্রতিমের বাবা

ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

দেশের ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি হলেন লুৎফর রহমান