চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও সিনেট নির্বাচনের তফসিল অবিলম্বে ঘোষণা, শতভাগ আবাসন নিশ্চিত, আবাসন ভাতা চালু, মেধার ভিত্তিতে অটোমেশন পদ্ধতিতে হলের সিট বণ্টন এবং পরিবহন ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রশিবির।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি। এ সময় সম্প্রতি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হলের সিট দখলের অপচেষ্টা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সিট বরাদ্দের অভিযোগও তোলা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ খালেদ, অফিস ও পরিকল্পনা সম্পাদক রবিউল ইসলাম, অর্থ ও ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা, আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সম্পাদক ও সাঈদ বিন হাবিব প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রায় ছয় দশক পরও ২০ শতাংশের কম শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের আশপাশের কটেজ, মেস ও শহরে বাড়তি ভাড়া দিয়ে থাকতে হচ্ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালুর দাবি করেন।
হলের সিট বণ্টনে রাজনৈতিক প্রভাব ও সুপারিশ বন্ধের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় সিট বরাদ্দ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দের সুযোগ রাখা যাবে না। সিট বণ্টনের পূর্ণাঙ্গ তালিকাও প্রকাশ করতে হবে।
সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্টের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাদের বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রশিবির নেতারা ঘটনার তদন্ত করে ন্যায়বিচারের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন হলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সিট বরাদ্দের চেষ্টা চলছে।
পরিবহন সংকটের কথা তুলে ধরে শাটল ট্রেনের বগি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত বাস সংযোজন, প্রয়োজনীয় রুটে বাস বাড়ানো এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা, আবাসন ভাতা চালু, পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার, অটোমেশন পদ্ধতিতে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক সিট বণ্টন এবং অবিলম্বে চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণা।
ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে প্রশাসনকে জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ভূমিকা পালন করতে হবে।