ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনের জন্য অপেক্ষার প্রহর যেন শেষই হচ্ছে না। এরই মধ্যে সবশেষ সমাবর্তনের পর কেটে গেছে আট বছরেরও বেশি সময়। বিগত কয়েকটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো ঘোষণাই বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত ৪৭ বছরে ইবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র চারটি সমাবর্তন। প্রথম সমাবর্তন হয় ১৯৯৩ সালের ২৭ এপ্রিল, দ্বিতীয়টি ১৯৯৯ সালের ৫ ডিসেম্বর, তৃতীয়টি ২০০২ সালের ২৮ মার্চ এবং সবশেষ সমাবর্তন হয় ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি। এরপর আর কোনো সমাবর্তন আয়োজন করা হয়নি। ফলে প্রতি বছর সমাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
চতুর্থ সমাবর্তনের পর থেকেই একাধিকবার পঞ্চম সমাবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হয়। ২০২২ সালে দ্রুত সমাবর্তনের প্রস্তুতির কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আব্দুস সালাম ২০২৪ সালের মধ্যেই পঞ্চম সমাবর্তন আয়োজনের ঘোষণা দেন। তবে শেষ পর্যন্ত জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে তিনি পদচ্যুত হন।
গত বছরও সমাবর্তনের দাবিতে সরব হন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সমযয়ে তারা জানান, দীর্ঘদিন সমাবর্তন না হওয়ায় অনেকেই আনুষ্ঠানিক সনদ গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ইবির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমাবর্তন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলেও ব্যর্থ হন।
এদিকে, দীর্ঘদিন সমাবর্তন না হওয়ায় বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে । তাদের প্রত্যাশা, অতীতের মতো আরেকটি আশ্বাস নয়; বরং নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করে দ্রুত পঞ্চম সমাবর্তন আয়োজন করবে ইবি প্রশাসন। তবে প্রশাসন বলছে, এখনই সমাবর্তন আয়োজনের মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এম তানভীর আসলাম বলেন, গত আট বছরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ইতি টেনেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার সমাবর্তনের আশ্বাস দিয়েও শিক্ষার্থীদের আশাহত করেছে। এবার চাওয়া, প্রশাসন সমাবর্তনের মাধ্যমে আমাদের সুন্দর মুহূর্ত উপহার দিক।
আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তন্ময় ঘোষ বলেন, দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবর্তন হয় অথচ ইবি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র চারবার সমাবর্তন হয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আমাদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ সমাবর্তনের আয়োজন করবে।
ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিব হাসান বলেন, সমাবর্তন শুধু একটি সার্টিফিকেট বিতরণের দিন বা অনুষ্ঠান নয়, এটি একজন শিক্ষার্থীর পাঁচ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। সবার মতো আমিও চাই ইবিতে দ্রুত সমাবর্তন হোক।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক একেএম মতিনুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সংকট রয়েছে। সমাবর্তন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে থাকা প্রয়োজন, যেটা এখন নেই। যেটা করতে পারব না, সে বিষয়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে লাভ নেই।