ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রায় অর্ধ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মুঠোফোন ফিরে পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী। দীর্ঘ সময় পর হারানো ফোন ফিরে পেয়ে ডাকসুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ওই শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, ঢাবির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি প্রায় ছয় মাস আগে হারিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি করেও ফোনটির সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে সেটি ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন তিনি।
পরে বিষয়টি ডাকসুকে জানালে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফোনটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অনুসন্ধানের পর ফোনটির প্রকৃত মালিকানা যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ফোন হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, এজিএস মহিউদ্দীন খান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনসহ ডাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা এরই মধ্যে প্রায় ডজনখানেক শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া মুঠোফোন উদ্ধারে সহায়তা করেছি। হারানোর দীর্ঘদিন পর হলেও আজ আরও একজন শিক্ষার্থীর ফোন তার হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা সমাধানে ডাকসু ভবিষ্যতেও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দীন খান বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী যখন তার প্রয়োজনীয় মুঠোফোন হারিয়ে ফেলেন, তখন সেটি শুধু একটি ডিভাইস হারানোর বিষয় থাকে না; এর সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগও জড়িত থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের হারানো ফোন উদ্ধারের বিষয়টি ডাকসুর পক্ষ থেকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অক্লান্ত পরিশ্রম করে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ফোনটি উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘ডাকসুর মূল লক্ষ্যই হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা এবং তাদের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা। প্রায় অর্ধ বছর পর একজন শিক্ষার্থী তার হারানো ফোন ফিরে পেয়েছেন; এটি আমাদের জন্যও সন্তোষের বিষয়।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ডাকসু প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
ফোন উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব।’