শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বন্ধ, ইসলাহী ও তারবিয়াতি কার্যক্রম জোরদার, ছাত্র-ছাত্রী সুরক্ষা কমিটি কার্যকর করা এবং মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার রোধে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের দেওয়া নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স।
দেশের ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও তাদের অধিভুক্ত মাদরাসাগুলোর প্রতি এসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স বলেছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা এবং মাদরাসায় নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা ইতোপূর্বে আল-হাইআতুল উলয়ার সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়।
সংগঠনটির মতে, ওই আলোচনার বিষয়গুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নীতিগত নির্দেশনা ও বাস্তবায়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স বলেছে, শিক্ষার্থীদের শাস্তি হিসেবে প্রহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনমূলক আচরণ বন্ধ, নিয়মিত ইসলাহী ও তারবিয়াতি মজলিসের আয়োজন এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মাদরাসায় সক্রিয় সুরক্ষা কমিটি গঠন এবং অভিযোগ দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য আরো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কল্যাণকর পরিবেশ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করেছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষকসমাজ কিংবা ওলামা সমাজের ওপর না চাপানোর যে অবস্থান আল-হাইআতুল উলয়া জানিয়েছে, সেটিকেও ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল বলে উল্লেখ করেছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স।
সংগঠনটি বলেছে, অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাও রক্ষা করা জরুরি। উভয় ক্ষেত্রেই ন্যায় ও ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র রফিকুল ইসলাম আইনী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও দ্বীনি দায়িত্ব। আমরা ইতোপূর্বে আল-হাইআতুল উলয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। এখন আল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও বাস্তবায়নমূলক উদ্যোগ দেখতে পেয়ে আমরা আশাবাদী।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা হলো, এসব নির্দেশনা দেশের প্রতিটি কওমি মাদরাসায় কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রফিকুল ইসলাম আইনী আরো বলেন, ‘কওমি মাদরাসা আমাদের দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই কোনো অনিয়ম বা অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কওমি মাদরাসা ব্যবস্থা ও ওলামা সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করাও সমীচীন নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা এবং মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক সংস্কার—দুই ধারাই একসঙ্গে এগিয়ে যাক।’
এএম