সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর বিষয়ে বিধিমালা পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘দিকে দিকে খবর দে, ভাইভা প্রথার কবর দে’, ‘ভাইভার নামে প্রহসন, চলবে না চলবে না’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটা গেছে দিল্লিতে, ভাইভা যাবে লন্ডনে’ এবং ‘কোটা গেছে যেই পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, বর্তমান সরকার সব জায়গায় দলীয়করণ করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভাইভায় অস্বাভাবিক হারে নম্বর বৃদ্ধি করেছে। এভাবে ভাইভার মাধ্যমে দলীয় কোটায় নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।
তিনি বলেন, এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা গেছে। গত ৫ তারিখে এলাকার স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীকে চাকরির লোভ দেখিয়ে সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে চাওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অস্ত্র হাতে যারা ক্যাম্পাসে এসেছিল, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ইউসুফ আলী আরও বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের একবিন্দু রক্ত থাকা অবস্থায় কোনো অনিয়ম আমরা সহ্য করব না। ১০০ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রলোভন দেখিয়ে সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার যে পাঁয়তারা করছেন, আরেকবার চিন্তা করবেন। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে কী পরিণতি হবে, সেই কথা চিন্তা করে আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন।’
বিক্ষোভ শেষে নেতাকর্মীরা সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।