কার্টুন শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হাসান নাসিমের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এসময় তাদের হাতে ‘কথা চলবে, কলম চলবে’, ‘বলে যাবো, লড়ে যাবো’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন দেখা যায়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে অতীতের মতোই এখনও একই ধরনের আইন ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, কার্টুন শেয়ারের মতো ঘটনায় একজন নাগরিককে গ্রেফতার করা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “লেখক মুস্তাক ও কার্টুনিস্ট আহমেদ কিশোরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা তাদের ভুলে যাইনি। হাসান নাসিমকে যেভাবে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে, তা আমাদের সেই সময়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তারের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও তার পরিবারের সদস্যরা ডিবি কার্যালয়ে গিয়েও কোনো তথ্য পাননি। আমরা আজকের শুনানিতে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।”
এসময় তিনি লেখক, শিল্পী ও কার্টুনিস্টদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খান তালাত রাফি বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অতীতে বাকস্বাধীনতা দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমান সরকারও একই আইনের অপপ্রয়োগ করছে, যা উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকটসহ নানা সমস্যায় মানুষ যখন বিপর্যস্ত, তখন সরকারের উচিত এসব সংকট সমাধানে মনোযোগ দেওয়া। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে কোনো সরকার টিকতে পারে না।”
বক্তারা অবিলম্বে হাসান নাসিমের মুক্তি এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।