হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

রামিসা হত্যার প্রতিবাদে আজাদী মঞ্চের মানববন্ধন

প্রতিনিধি, জবি

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে শাহজাদপুর আজাদী মোড়ে মানববন্ধন করেছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আজাদী মঞ্চ'।

শনিবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির আহ্বানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পথচারী, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিশু রামিসার হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। যে দেশে একটি আট বছরের শিশুও নিরাপদ নয়, সেই সমাজ সভ্যতার মুখ দেখাতে পারে না। ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও শিশু হত্যার ঘটনায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলেই অপরাধীরা একের পর এক নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, রামিসাকে যেভাবে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু রামিসা নয়, গত এক দশকে দেশের অসংখ্য শিশু ও নারী ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হলেও অধিকাংশ ঘটনায় বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

মানববন্ধনে প্রধান বক্তা মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুর রব বলেন, ‘আজ রামিসা, কাল হয়তো আরেকটি শিশু। রাষ্ট্র যদি শিশুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। ধর্ষকদের প্রতি কোনো সহানুভূতি নয়, প্রকাশ্য ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হতে হবে একমাত্র জবাব।'

মো. ওবায়দুল হকের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি অধ্যাপক তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘একটি শিশুর বিচ্ছিন্ন মাথা বালতিতে পাওয়া যায়, আর আমরা নীরব থাকব, এটা হতে পারে না। প্রতিটি মা আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আমরা এই বর্বরতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাই।'

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সহকারী অধ্যাপক উসমান জামান। তিনি সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘রামিসার রক্ত এই সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এখনই যদি রাষ্ট্র কঠোর অবস্থান না নেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়াবহ অনিরাপত্তার মধ্যে বেড়ে উঠবে।’

মানববন্ধনের আহ্বায়ক রিফাত জাহান রাফি বলেন, আজাদী মঞ্চ বিশ্বাস করে নীরব থেকে কোনো পরিবর্তন আসে না। রামিসার জন্য আমরা আজ রাস্তায়, কাল যদি বিচার না হয় তাহলে আমরা আরও বড় জমায়েতে আবার রাস্তায় নামব।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ড. সাবিহা সুলতানা, মো. সিদ্দিকুর রহমান, শরীফ বায়েজিদ মাহমুদ, ড. রিয়াজ বিন সাইয়েদ, মিসেস তাবাসসুম, রুহি রাওয়ান, আয়েশা মাক্কি, মোস্তফা কাইয়ূম ভুঁইয়া, সুমাইয়া হোসেন, কবিতা খানম, ফেরদৌসী খানম, রুম্মান, আনিস ফাতিমা, প্রফেসর মনসুরুল হক, ফয়েজ আহমেদ, সালমা, শাকিল খান ও শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মাহদিয়া বিনতে রিয়াজ, নিগার সুলতানা ও রুশদা। তারা বলেন, ‘আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। আমরা মেয়েদের জন্য নিরাপদ পৃথিবী তথা নিরাপদ বাংলাদেশ চাযই। রামিসা হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত দেশের মানুষকে রাজপথে থাকতে হবে।'

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘ধর্ষকের ফাঁসি চাই', ‘রামিসা হত্যার বিচার চাই',‘শিশু হত্যা বন্ধ করো' ইত্যাদি স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত বিচার ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জবি প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে জকসুর শুভেচ্ছা

হাবিপ্রবিতে সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের, আটক ৪

ধর্ষণ, হত্যা ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে খুবিতে বিক্ষোভ

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার দাবিতে শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ

ঈদযাত্রায় শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সুবিধা রাখেনি রাবি প্রশাসন

হাবিপ্রবিতে সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় ৩১ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

চবিতে ‘পর্দা কর্নার’ নিয়ে ছাত্রদল নেতার কটাক্ষপূর্ণ পোস্ট

শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরা নির্বিঘ্ন করতে জবি ছাত্রদলের উদ্যোগে ডাবল ডেকার বাস

গাইবান্ধা সরকারি কলেজে কুরআন দিবসের পুরস্কার বিতরণ

চাঁদাবাজির অভিযোগে ববি ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার