ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের সদিচ্ছা ও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, সরকার চাইলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা কঠিন কোনো কাজ নয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল, শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের ফিরিয়ে না দিলে সরকারপ্রধান ভারত সফরে যাবেন না। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সহযোগিতা চেয়ে দুই-তিনবার ভারত সরকারকে চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ভারত সরকার চিঠির জবাব না দিলে দেশটির হাইকমিশনারকে তলব করে জবাব চাওয়া উচিত। ভারত সরকার কেন এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দিচ্ছে না, সেটিও জানতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কি না, সেই প্রশ্নও উঠে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে অসংগতি তুলে ধরে জাবের বলেন, বিগত সময়ে ভারতকে ট্রানজিট, করিডোর, ব্যবসায়িক সুবিধা ও বিদ্যুৎ খাতে নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারও এসব খাতে ভারতকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে জানতে পেরেছেন তাঁরা।
সম্প্রতি খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের অর্থায়নে নির্মিত বন্দরটি ভারতকে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই তৈরি করা হচ্ছে। একদিকে ভারত থেকে খুনিদের ফিরিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানোর আহ্বান জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, কূটনীতি ও নেগোশিয়েশনের অর্থ দেশের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া নয়; বরং আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।